.webp)
হিমন্ত শর্মা।
শেষ আপডেট: 8 September 2024 09:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবৈধ বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করতে আগেই এনআরসি বা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস চালু করেছিল অসম সরকার। কিন্তু সেখানেও বিস্তর গরমিল ধরা পড়েছে। বেশ কিছু জেলায় মোট জনসংখ্যার চেয়ে আধার কার্ডের জন্য আবেদনের সংখ্যা বেশি হতেই বিষয়টি নজরে আসে সরকারের। এবার এ বিষয়ে বড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত সরেন।
জালিয়াতি ধরতে ১ অক্টোবর থেকে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) চালু করতে চলেছে অসম সরকার। এক সাংবাদিক সম্মেলনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আধার কার্ডের জন্য আবেদনগুলি জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। অর্থাৎ সন্দেহজনক নাগরিক রয়েছে। তাই তাঁদের চিহ্নিত করতে এসওপি চালু করা হচ্ছে। যাদের কাছে এনআরসির আবেদন পত্রের নম্বর নেই, তাঁরা আধার কার্ড পাবেন না।"
তবে শুরুতেই যে ৯.৫৫ লক্ষ মানুষ আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে অসম সরকার। কারণ, তাঁদের ওই আবেদনপত্র জমা নেওয়ার সময় বায়োমেট্রিক্স লক করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, চারটি জেলায় মোট জনসংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক আধার কার্ডের আবেদন জমা পড়েছে। এই জেলাগুলি হল বারপেটা (১০৩.৭৪ শতাংশ) ধুবরি (১০৩ শতাংশ) এবং মরিগাঁও এবং নগাঁও উভয় জেরাতে জমা পড়া আধার কার্ইডের সংখ্যা জনসংখ্যার ১০১ শতাংশ!
হিমন্ত বলেন, "আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিশনার কর্তৃক অনাপত্তি শংসাপত্র দেওয়ার পরেই নতুন আবেদনকারীদের আধার কার্ড দেওয়া হবে। সব দিক খতিয়ে দেখে এই ধরনের সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে। যদি আবেদনকারীর এনআরসি এআরএন থাকে তবে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি ২০১৪ এর আগে রাজ্যে ছিলেন।”
সরকারের দাবি, গত ২ মাসে বেশ কয়েকজন সন্দেহজনক বাংলাদেশিকে আটক করা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। সে কারণেই নতুনদের আধার কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে এসওপি চালু করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ জন অবৈধ নাগরিককে চিহ্নিত করেছে অসম সরকার। এর মধ্যে ৪৮জনকে চিহ্নিত করা হয় করিমগঞ্জ থেকে। বাকিদের মধ্যে ৪জনকে বোঙ্গাইগাঁওয়ে এবং ধুবরি জেলায় একজন করে। এদের মধ্যে ৪৫ জনকে তাদের দেশে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।