দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকদিন আগে কেরলে শাসক সিপিএম ও বিরোধী কংগ্রেস যৌথভাবে বিধানসভায় নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করায়। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরিফ মহম্মদ খানের সুরে তিনি বললেন, ওই প্রস্তাবের কোনও আইনি বা সাংবিধানিক বৈধতা নেই। তাঁর কথায়, “নাগরিকত্ব পুরোপুরি কেন্দ্রের বিষয়। তাই ওই প্রস্তাবের কোনও অর্থ থাকতে পারে না।”
পরে তিনি বলেন, “আমি আগেই এসম্পর্কে আমার মতামত প্রকাশ্যে জানিয়েছি। আমাদের এমন বিষয় নিয়ে সময় বা অর্থ ব্যয় করা উচিত নয় যা সরকারের এক্তিয়ারের বাইরে। কিন্তু কেউ কেন্দ্রীয় সরকারের মত নাও মানতে পারেন। তাঁরা কেন্দ্রের কাছে কোনও দাবি জানাতে পারেন। তাতে আমার কিছু বলার নেই।”
কেরলে বাম ও কংগ্রেস উভয়েই বলেছে, যেভাবে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা হচ্ছে, তা সংবিধানের বিরোধী। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন মুসলিমদের বিরোধী। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্যই ওই আইন। তাতে অবশ্য তিন দেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়নি।
কেরল বিধানসভায় যেভাবে নতুন আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক বলেই মন্তব্য করেছেন রবিশঙ্কর প্রসাদ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “সম্প্রতি বেশ কিছু রাজ্য শুধুমাত্র নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক বাঁচানোর জন্য বলছে তারা সেখানে নাগরিকত্ব আইন লাগু করতে দেবে না। আমি সেইসব সরকারকে বলব আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিন। ভারতীয় সংবিধানের ২৪৫, ২৫৬ ও আরও কয়েকটি ধারা স্পষ্ট বলে দিয়েছে নাগরিকত্বর মতো বিষয়ে যে কোনও আইন পাশ করার অধিকার সংসদের রয়েছে।”
এই ধরনের কথা বলে রাজ্য সরকারগুলি সংবিধানের অবমাননা করছে বলেও কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধানের অবমাননা। সংসদের দু’কক্ষেই আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই আইন পাশ করা হয়েছে। তাহলে এই আইন কেন লাগু হবে না। যেসব সরকার এই আইনের বিরোধিতা করছে তাদের মাথায় রাখা উচিত, তারা এই সংবিধানকে সামনে রেখেই শপথ নিয়েছে। তাই সংবিধান মানতে তারা বাধ্য।”