
শেষ আপডেট: 16 October 2019 18:30
মথুরার বিজাউ গ্রাম। প্রায় ২০০ বছর ধরে এই রীতি চলে আসছে এখানে। কেন এমন জানতে চাইলে খুব বেশি মুখ খোলেন না গ্রামের মহিলারা। যেন শতাব্দী প্রাচীন কোনও ভয়-সংস্কার এখনও চেপে বসে আছে গ্রামের আনাচেকানাচে। বৃদ্ধ মোড়ল জানিয়েছেন, এক ব্রাহ্মণ মহিলার অভিশাপের ভয় আজও তাড়া করে গ্রামের মহিলাদের। এই সংস্কার থেকে তাঁরা এখনও বেরোতে পারেননি। বংশপরম্পরায় এমনই প্রথা চলে আসছে এই গ্রামে।
মোড়লের কথায়, জনশ্রুতি আছে, একবার রামনাগলা গ্রামের এক ব্রাহ্মণ দম্পতি এই গ্রামের মধ্যে দিয়ে তাঁদের গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। দু’জনে ছিলেন গরুর গাড়িতে। আচমকাই ওই দম্পতির রাস্তা আটকান এই বিজাউ গ্রামের কয়েকজন পুরুষ। তাঁদের দাবি ছিল, ব্রাহ্মণ গরুর গাড়ি চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। মারধর করা হয় তাঁর স্ত্রীকেও। শোনা যায়, স্বামীর চিতাতেই নাকি ঝাঁপ দিয়ে তিনি ‘সতী’ হয়েছিলেন। আর মৃত্যুর আগে গ্রামের সব মহিলাদের বিধবা হওয়ার অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিলেন। এর পর থেকেই এই গ্রামের মহিলাদের বিশ্বাস জন্মায়, সধবা মহিলারা কোনও রীতি বা রেওয়াজ পালন করলেই তাঁদের স্বামীদের মৃত্যু হবে। সেই কারণেই এই গ্রামে আজ অবধি করবা চৌথ পালন করা হয়নি। মহিলারা বিয়ের পরে সিঁথিতে সিঁদুরও দেন না।
“যুগ বদলালেও আমাদের প্রথা বদলাবে না। আমরা আমাদের বিশ্বাস আগলেই বাঁচব। আমি কোনওদিন সিঁদুর পরিনি, আমার মেয়েদেরও পরতে দেব না। কোনও উৎসবেও ভাগ নেব না,” বলেছেন গ্রামের ঠাকুর পরিবারের ৯৬ বছরের সুনহারি দেবী।
২৫ বছর হয়ে গেল বিয়ে হয়েছে ববিতার। তিনি বলেছেন, "অনেকেই অন্ধবিশ্বাস মনে করে করবা চৌথের ব্রত পালন করেছিলেন। এমন সাতজনের মৃত্যু হয় পরপর। এই গ্রামের বাতাসে অভিশাপ ঘুরে বেড়ায়। আমরা আজও ভয় পাই।"
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা...
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%9a%e0%a7%87/