
শেষ আপডেট: 6 June 2023 04:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডলি-ধোসা মহাকাশে চলবে না, মোগলাই খানাপিনা একেবারেই না। গগনযানে (Gaganyaan) চেপে মহাকাশে গিয়ে মনের মতো পেটপুজো চলবে না একদমই, এমনই নির্দেশ জারি করেছে ইসরো (ISRO)। খেতে হবে ডায়েট মেনেই। সেদ্ধ খাবারের সঙ্গে থাকবে নানারকম ফল। সবই প্যাকেটে সিল করে দেওয়া হবে। ইচ্ছা মতো খাবার নিয়ে যাওয়া যাবে না কোনওভাবেই।
পৃথিবীর মাটি ছাড়াবার আগেই গগনযানে প্যাকেটভর্তি খাবার ভরে দেবেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। পাউচে যাবে জল ও ফ্রুট জুস। বায়ুসেনার যে চার অফিসারকে গগনযানে চাপিয়ে পাঠানো হচ্ছে মহাকাশে, তাঁদের পুষ্টি ও শরীরের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ।

আগে ঠিক ছিল মোগলাই বা দক্ষিণী খাবার খাওয়া যাবে গগনযানে। ভরপুর মাংসও খেতে পারবেন নভশ্চররা। তবে ইসরোর বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে গিয়ে এইসব চর্বচোষ্য খাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। চিকেন খাওয়া যাবে তবে তা সিদ্ধ, স্যালাডের সঙ্গে মিশিয়ে। ফল ছোট ছোট টুকরো করে কেটে প্যাকেটে সিল করে দেওয়া হবে। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট সম পরিমাণে থাকবে। পুষ্টিকর খাবার খেলে তবেই মহাকাশে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা যাবে। শুধু প্যাকেটবন্দি খাবার নয়, খাবার গরম করার মতো যন্ত্রপাতিও পাঠানো হবে সাজিয়ে গুছিয়ে। স্টেনলেস স্টিলের বাসন আর নোংরা ফেলার বিশেষ ডাস্টবিনও যাবে গগনযানে।
প্রথম ‘ম্যানড মিশন’ মহাকাশবিজ্ঞানের ইতিহাসে মাইলস্টোন হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান এস সোমনাথ।
পৃথিবীর মতো গ্রহ জলে টইটম্বুর, ২৩ ঘণ্টায় একদিন হয়, প্রাণ আছে কি?

আমেরিকা, রাশিয়ার পরে ‘ড্রাগনের দেশ’ চমক দেখিয়েছে। মঙ্গলে নামার কিছুদিন পরেই পৃথিবীর কক্ষে স্পেস স্টেশন বানানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে চিন। তিন নভশ্চরকে তড়িঘড়ি তদারকি করতে পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। চিন যা করছে, তার পরিকল্পনা অনেকদিন আগেই করেছে ভারত। গগনযান মিশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সে কারণেই। পৃথিবীর কক্ষে পাক খেয়ে দেখেশুনে খবর আনবে গগনযান। কারণ পৃথিবীর সর্বনিম্ন কক্ষপথে একটা আস্ত বাড়ি বানানোর পরিকল্পনা আছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরোর। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের মতো ভারতেরও নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি হবে মহাকাশে। তার প্রস্তুতি দীর্ঘ সময় ধরেই চলছে।
কোভিড মহামারী ও লকডাউনের কারণে গগনযান মিশন পিছিয়ে গেছে। ইসরোর স্পেস স্টেশন তৈরির পরিকল্পনাও থমকে গেছে। কিন্তু এবার জোরকদমে গগনযানকে মহাকাশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভারতের নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরি হলে পৃথিবী থেকে যে নভশ্চররা মহাকাশে যাবেন তাঁরা এই স্পেস স্টেশনেই বিশ্রাম নেবেন। সেখান থেকেই রকেটে চেপে পাড়ি দেবেন চাঁদে বা অন্য গ্রহে। একদিকে যেমন জ্বালানীর সাশ্রয় হবে, তেমনি পৃথিবী থেকে এত বেশি রসদ বয়ে নিয়ে যেতে হবে না। স্পেশ স্টেশনে সব ব্যবস্থাই পাকা থাকবে।
ভারতের মহাকাশ স্টেশন শুরুতেই এত বড় হবে না। কাজ এগোবে ধাপে ধাপে। ওজন হবে ২০ টনের মতো। ভেতরে প্রাথমিকভাবে তিনটে ঘর থাকবে। তিনজন নভশ্চরের থাকার মতো জায়গা থাকবে। নিজেদের স্পেস স্টেশনে বসেই বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারবেন মহাকাশচারীরা। প্রয়োজনে ১৫-২০ দিন টানা থাকতে পারবেন। ইসরোর পরিকল্পনা ছিল, গগনযান মিশন সফল হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই স্পেস স্টেশন বানানোর কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে। এবার সেই স্বপ্ন কতদিনে পূরণ হয় সেটাই দেখার।