দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখের দেপসাং সমতলভূমিতে জমি দখল করতে পারেনি চিনের লাল সেনা। অথচ দেপসাঙের অন্তত চারটি পয়েন্ট আটকে বসে আছে তারা। জবরদস্তি অধিকার কায়েম করতে না পেরে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অযথা উত্তেজনা তৈরি করছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। তাদের টপকে টহল দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না ভারতের বাহিনীর। এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা আধিকারিক।
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গালওয়ান, দেপসাং ভ্যালিতে কোনওদিনই জমি দখল করতে পারেনি চিনের সেনা, দাবি ওই সেনা আধিকারিকের। তাঁর বক্তব্য, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে চিনের সেনা বারে বারেই সীমান্তে অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করে গেছে শুধু। মুখোমুখি অবস্থানে দুই দেশের বাহিনীর ঘাত প্রতিঘাতও হয়েছে। কিন্তু ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে এসে জমি দখল করার উদ্দেশ্য সফল হয়নি তাদের। তবে ভারতের সেনাও এতদিন পাহাড়ি এলাকা পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, দাবি সেনা আধিকারিকের।
সেনা সূত্র জানাচ্ছে, চুসুল সীমান্তে দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্বের বৈঠকের পরেও গালওয়ান, গোগরা ও হটস্প্রিং এলাকা থেকে পুরোপুরি সেনা সরায়নি চিন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গালওয়ানের ১৪ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্ট থেকে সেনা পিছনো (ডিসএনগেজমেন্ট)হলেও হটস্প্রিংয়ের ১৫ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্ট ও গোগরার কাছে ১৭এ পেট্রোলিং পয়েন্টে এখনও সেনা মোতায়েন রেখেছে চিন। অন্যদিকে, প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তরে ৩ নম্বর ফিঙ্গার পয়েন্টের কাছেও সেনার সংখ্যা বাড়াচ্ছে তারা। সেখানে সামরিক কাঠামো তৈরি হতেও দেখা গেছে। ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ ভারতের সেনার নিয়ন্ত্রণে এলেও তার থেকে ৫০০ মিটার দূরত্বেই লাল সেনার গতিবিধি টের পাওয়া গেছে।

ভারত-চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় জমিতে স্পষ্ট কোনও সীমা নেই। পেট্রোলিং পয়েন্ট হল চিহ্নিত এলাকা যেখানে সেনাবাহিনী টহল দিতে পারে। পেট্রোলিং পয়েন্ট বা পিপি ১৫ রয়েছে গালওয়ান উপত্যকা বরাবর। এই এলাকার দখল নিয়েই দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। অন্যদিকে, পিপি ১০, পিপি ১১, পিপি ১২ ও পিপি ১৩ পয়েন্ট রয়েছে উত্তর লাদাখে, দেপসাং সমতলভূমি বরাবর। রাকি নালা থেকে জীবন নালা পর্যন্ত, যেটা এলএসি-র কাছাকাছি পড়ে না। এই পয়েন্টগুলো ভারতীয় সেনার নিয়ন্ত্রণাধীন। তবে গালওয়ানের সংঘর্ষের পর থেকে এই দেপসাং ভূমিতেও চিন নিজেদের বাহিনী ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে দাবি।

সেনা সূত্র জানাচ্ছে, ভৌগেলিক দিক দিয়ে এই দেপসাং ভূমির গুরুত্ব আছে। কারণ এই এলাকা দৌলত বেগ ওল্ডির কাছে। আর দৌলত বেগ আকসাই চিন লাগোয়া। । ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড’ আকসাই চিনের লানাক লা-তে বেশ কিছু সেনা ছাউনি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। সেখানে সামরিক পরিকাঠামো তৈরির কাজও চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেপসাং এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে রাখলে কারাকোরাম পাস হয়ে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে আসা সহজ হবে তাদের কাছে। তবে ভারতীয় সেনার প্রস্তুতির সামনে হার মেনে পিছু হটতে হবে তাদের। সেনা আধিকারিক বলছেন, আকসাই চিন লাগোয়া দৌলত বেগ ওল্ডিতে পাহারা দিচ্ছে বিধ্বংসী টি-৯০ ভীষ্ম ও টি-৭২ ট্যাঙ্ক। হাউইৎজার কামানও প্রস্তুতও আছে জায়গায় জায়গায়। ভারতের দিকে থেকে প্রতিআক্রমণের সম্ভাবনা আছে মনে করেই নিজেদের সামরিক কাঠামো তৈরি শুরু করেছে চিন।