দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার সন্ধ্যা আটটায় আস্থাভোট হয়েছে কর্ণাটক বিধানসভায়। পড়ে গিয়েছে কংরেস-জেডিএস জোট সরকার। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সরকার গঠনের দাবি জানায়নি বিজেপি। নতুন সরকারে যিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে জানা যাচ্ছে, সেই বি এস ইয়েদুরাপ্পা অবশ্য দুই আঙুল দিয়ে ভিকট্রি সাইন দেখাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, দিল্লির নির্দেশ এলেই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। বুধবার সন্ধ্যাতেও তিনি একই কথা বলেছিলেন। আস্থাভোটের এতক্ষণ পরেও দিল্লি থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ আসছে না কেন, জানাননি ইয়েদুরাপ্পা।
আস্থাভোটে খুব অল্প ব্যবধানে জিতেছিল বিজেপি। কংরেস-জেডিএস জোট পেয়েছিল ৯৯ টি ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ১০৫ টি। তারপরে ইয়েদুরাপ্পার ছেলে বিজয়েন্দ্র এবং কর্ণাটকের আরও কয়েকজন বিজেপি নেতা দিল্লিতে গিয়েছেন। তাঁরা দলের সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করবেন। যদিও বিজয়েন্দ্র নিজে সাংবাদিকদের বলেছেন, আমার সঙ্গে যাঁরা দিল্লিতে এসেছেন, তাঁরা অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করবেন। আমি দেখা করব না। ব্যক্তিগত কাজে আমাকে দিল্লিতে আসতে হয়েছে।
কর্ণাটকের অপর বিজেপি নেতা অরবিন্দ লিম্বাবলী বলেছেন, আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জানতে চেয়েছি, নতুন সরকার হলে তার স্ট্র্যাটেজি ও অ্যাকশন প্ল্যান কী হবে। তাঁরা এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ দেবেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের থেকে নির্দেশ না আসা অবধি বিজেপি কর্ণাটকে পরিষদীয় দলের বৈঠকও স্থগিত রেখেছে। সেই বৈঠক হলে ইয়েদুরাপ্পা নেতা নির্বাচিত হবেন। সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত হবে।
একটি সূত্রের খবর, বিজেপি ভেতরে ভেতরে চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে তাদের পক্ষে যথেষ্ট সংখ্যক বিধায়ককে জড়ো করা যায়। তবেই স্থিতিশীল সরকার গঠন করা যাবে।
গত বছর মে মাসে কর্ণাটকে বিধানসভা ভোট হয়। কোনও পক্ষই গরিষ্ঠতা পায়নি। ইয়েদুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক বিধায়ক ঠিক জোগাড় করে ফেলবেন। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা পরে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়।
এবার আস্থাভোটের পরেও কর্ণাটকে অনেকগুলি বিষয় অস্পষ্ট থেকে গিয়েছে। যে ১৬ জন বিধায়ক ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার পরে কুমারস্বামী সরকার পড়ে গেল, তাঁদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি স্পিকার কে রমেশ কুমার। বিদ্রোহী বিধায়করা এখন রয়েছেন মুম্বইয়ের পাঁচতারা হোটেলে। তাঁরা জানিয়েছেন, এখন বেঙ্গালুরুতে ফেরার ইচ্ছা নেই।