বিহারের হোম কাণ্ড: একটিও নাবালিকা খুন হয়নি, কঙ্কালগুলি অন্য লোকের, সুপ্রিম কোর্টকে বলল সিবিআই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুজফফরপুরের হোম কাণ্ডে ফের নয়া মোড়। আবাসিক হোমের নাবালিকাদের খুন করা হয়নি বলেই দাবি করল সিবিআই। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই জানায়, একটি মেয়েকেও খুন করা হয়নি। মাটি খুঁড়ে যে কঙ্কালগুলি উদ্ধার হয়েছে সেগুলি প
শেষ আপডেট: 7 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুজফফরপুরের হোম কাণ্ডে ফের নয়া মোড়। আবাসিক হোমের নাবালিকাদের খুন করা হয়নি বলেই দাবি করল সিবিআই। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই জানায়, একটি মেয়েকেও খুন করা হয়নি। মাটি খুঁড়ে যে কঙ্কালগুলি উদ্ধার হয়েছে সেগুলি প্রাপ্তবয়স্কদের এবং হোমের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। হোমের যে ৩৫ জন নাবালিকা নিখোঁজ বলে দাবি করা হয়েছিল, তারাও নাকি বেঁচে আছে।
বিহারে মুজফফরপুরের হোমে আবাসিক মেয়েদের উপরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারা মেনে তদন্ত করতে সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি ইন্দু মলহোত্র ও বিচারপতি এম আর শাহের বেঞ্চ। সেই সময় সিবিআইও জানিয়েছিল, মুজফফরপুরের সরকারি হোমে ১১ জন মেয়েকে খুন করা হয়েছে বলে তাদের প্রাথমিকভাবে ধারণা। ওই এলাকা থেকে কিছু হাড়গোড়ও উদ্ধার হয়। যেগুলি হোমের নাবালিকাদের কিনা সেটা সিবিআইকে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
এদিন সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদের বেঞ্চে তদন্তের রিপোর্ট পেশ করে সিবিআইয়ের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপাল জানান, মুজফফরপুরের হোমে যৌন নির্যাতন করে শিশু হত্যার খবর সামনে এসেছিল। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, হোমের কোনও মেয়েকেই খুন করা হয়নি। সকলেই জীবিত। তিনি আরও বলেন, যে কঙ্কালগুলি উদ্ধার হয়েছিল সেগুলি ফরেন্সিক ল্যাবোরেটরিতে পরীক্ষা করা দেখে গেছে একটি কঙ্কাল পুরুষের ও অন্যটি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার।
অ্যাটর্নি জেনারেল বেণুগোপালের দাবি, হোমের প্রতিটি নাবালিকাকেই কাউন্সেলিং করা হয়েছে। তারাও স্বীকার করেছে হোম থেকে একজনও নিখোঁজ হয়নি।

২০১৮ সালে মুজফফরপুরের হোমে আবাসিক মেয়েদের উপর যৌন নির্যাতন ও মারধরের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে। মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিস)-এর অডিট রিপোর্টে ধরা পড়েছিল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাতে বলা হয়েছিল, মুজফফরপুর-সহ বিহারের একাধিক হোমে ধর্ষণ-সহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ মিলেছে। অত্যাচারের হাত থেকে নিষ্কৃতি পায়নি ছেলে-মেয়ে কেউই। লাগাতার তাদের ধর্ষণ করা হতো তাদের। মারধরও করা হতো। হুমকি দেওয়া হতো প্রাণে মেরে ফেলার। ওই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেয় বিহার সরকার। তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
টিস জানিয়েছিল মুজফফরনগরের হোমে বিকৃত যৌন নির্যাতন চালানো হত নাবালিকাদের উপর। আবাসিক ৩৫ জন মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবরও মিলেছিল। অভিযোগ ছিল, ধর্ষণের পরে খুন করে দেহ লোপাট করে দেওয়া হয়েছে ওই নাবালিকাদের। হোমে মেয়েদের যৌন নির্যাতনে বহিরাগতদের ভূমিকা আছে বলেও অভিযোগ ওঠে। নির্যাতনের কিছু ভিডিও সামনে এসেছিল। ঘটনায় ঘটনায় হোমের মালিক ও প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ব্রজেশ ঠাকুর-সহ ২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছিল সিবিআই।
বস্তুত, সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে সেই সময় নানা অভিযোগ ওঠে। হোমের তদন্তের দায়িত্বে যিনি ছিলেন সিবিআইয়ের সেই যুগ্ম অধিকর্তা এ কে শর্মাকে মাঝপথেই অন্যত্র বদলি হয়ে যেতে হয়। কেন তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল, কেন্দ্রের কাছে তা জানতে চান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। দ্রুত তদন্ত শেষ করে সিবিআইকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।