
শেষ আপডেট: 8 September 2022 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'লাভ জিহাদ' আটকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিজেপি (BJP) শাসিত মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) সরকার। সেখানে নবরাত্রিতে গরবা (garba) নাচার জন্য প্রত্যেককে সচিত্র পরিচয়পত্র (ID card) দেখাতে হবে। এমনই নিদান দিলেন মধ্যপ্রদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রী ঊষা ঠাকুর (Usha Thakur)। তাঁর দাবি, 'যে হারে দেশজুড়ে লাভ জিহাদের সংখ্যা বাড়ছে, তা থেকে হিন্দু মহিলাদের বাঁচাতে এ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।' শিবরাজ সিং চৌহানের ক্যাবিনেটের মন্ত্রীর এমন ফরমানে জোরদার রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঊষা বলেছেন, 'সবাই জানেন, গরবা মণ্ডপগুলো এখন লাভ জিহাদের বড় বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তাই আমরা চাইছি কেউ যাতে নিজের পরিচয় লুকিয়ে কিংবা নাম ভাড়িয়ে মণ্ডপে ঢুকতে না পারে। সবাইকেই এই বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। সরকার লাভ জিহাদ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে। তাই এখন থেকেই সকলের সাবধান হওয়া প্রয়োজন।' তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে, কোনও মুসলিম নিজের পরিচয়পত্র দেখালে কি গরবা-র মণ্ডপে প্রবেশাধিকার পাবেন?
'লাভ জিহাদ' কী?
এদেশের উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা এই শব্দবন্ধটি হামেশাই ব্যবহার করেন। তাঁদের দাবি, মুসলিম সম্প্রদায়ের ছেলেরা হিন্দু বাড়ির মেয়েদের ভুল বুঝিয়ে বিয়ে করেন এবং তারপর স্ত্রী'দের ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হতে বাধ্য করেন। যদিও এই বিষয়ে বিরোধীদের দাবি, দেশজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে হিন্দু ভোট একত্রিত করার জন্যই এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে বিজেপি ও আরএসএস। এই কৌশলেই তারা ভোটে বাজিমাত করছে।
কন্নড় সংখ্যা বুঝতে ভুল, ৮৫ হাজার গচ্চা দিল স্টেট ব্যাঙ্ক
এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার ঊষার এমন বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের উদাহরণ মিলেছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রথম সরকারের আমলে গরবা মণ্ডপে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ঢুকতে না দেওয়ার দাবি তুলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ঊষা। সেইসময় নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের গরবা উদ্যোক্তাদের চিঠি লিখে আর্জি জানিয়েছিলেন, মণ্ডপে যেন মুসলিমদের ঢুকতে না দেওয়া হয়। এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনও পুরুষ যাতে হিন্দু মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে না পারেন, তা-ও নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।