দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে বিজেপির উপরে চাপ বাড়াতে এবার তাদের কটাক্ষ করতেও ছাড়ল না শিবসেনা। হরিয়ানার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে কটাক্ষ করল মহারাষ্ট্রে বিজেপির ছোট শরিক। ভোটের এতদিন পরেও কেন মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন হল না, একটি সংবাদসংস্থার এই প্রশ্নের উত্তরে শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, “আমাদের দলে কোনও দৃষ্মন্ত (চৌটালা) নেই যাঁর বাবা জেলে। এখানে আমরা ধর্ম ও সত্যের রাজনীতি করি। শরদ (পওয়ার), যিনি বিজেপি-বিরোধিতার পরিবেশ তৈরি করেছেন তিনি ও কংগ্রেস – এদের কেউ কখনওই বিজেপির সঙ্গে যাবে না।”
নির্বাচনে ৯০ আসনের হরিয়ানা বিধানসভায় একক ক্ষমতায় সরকার গড়তে না পারায় জননায়ক জনতা পার্টির (জেজেপি) সমর্থন নিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। জেজেপির প্রধান দুষ্মন্ত চৌটালা হয়েছেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের প্রচারে লাগাতার বিজেপিকে আক্রমণ করেছিলেন দুষ্মন্ত চৌটালা।
বিজেপি-বিরোধীদের অভিযোগ, দুষ্মন্ত চৌটালার বাবা অজয় চৌটালাকে ঘুঁটি হিসাবে ব্যবহার করেই দুষ্মন্তের থেকে সমর্থন আদায় করেছে বিজেপি। দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই জেলে ছিলেন অজয়। বিজেপি এবং জেজেপি জোট বাঁধার পরের দিনই প্যারোলে জেল থেকে ছাড়া পান অজয়। সেই খোঁচাই বিজেপিকে দিয়েছে শিবসেনা।
বেশ কিছুদিন ধরেই টানা বিজেপিকে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন সঞ্জয় রাউত। তিনি বলেন, “উদ্ধব ঠাকরেজি বলেছেন, আমাদের হাতে অন্য উপায়ও রয়েছে, তবে আমরা পাপ করতে চাই না। শিবসেনা চিরকালই রাজনৈতিক সততায় বিশ্বাসী। আমরা ক্ষমতার জন্য লালায়িত নই।” সূত্রের খবর, ক্রমাগত বিজেপিকে আক্রমণ করে যাওয়ার জন্য শিবসেনা তো বটেই, বিশেষ করে সঞ্জয় রাউতের উপরে বিজেপি অসন্তুষ্ট। সোমবার আলাদা করে দুই দলই মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করেছে। তার পরে এই দুই জোটসঙ্গীর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নানারকম জল্পনা শুরু হয়েছে।
২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সঙ্গে তাঁদের ৫০:৫০ রফা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তা হলে কেন তারা ৫০ শতাংশ আসনে প্রার্থী দেয়নি? এই প্রশ্নের উত্তরে সঞ্জয় রাউত বলেন, দল ভেঙে অনেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ অনুরোধ করেছিলেন তাঁদের বেশি আসন ছাড়ার জন্য, তাতে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন উদ্ধব ঠাকরে।
এখন শিবসেনা চাইছে, ৫০:৫০ নীতি মেনে অর্ধেক মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে তাদের। একথা লিখিত ভাবে দিতে হবে বিজেপিকে। ২৮৮ আসনের মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছে ১০৫ ও শিবসেনা পেয়েছে ৫৬টি আসন। তাই কোনও ভাবেই মুখ্যমন্ত্রীপদ হাতছাড়া করতে চাইছে না বিজেপি। অনড় শিবসেনাও।