দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি একটি মহল থেকে শোনা যায়, বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব আগামী লোকসভা ভোটে আসন ভাগাভাগির ফর্মুলা চুড়ান্ত করে ফেলেছেন। কংগ্রেসকে আর আসন ছাড়া যাবে না। তাই দেশের বৃহত্তম দলটিকে বাদ দিয়েই বিরোধী জোট করছেন মায়াবতী-অখিলেশ। কিন্তু বিএসপি নেতারা এককথায় এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও থাকছে সন্দেহ। সত্যিই কি কংগ্রেসের সঙ্গে আগামী দিনে জোটে থাকতে চান মায়াবতীরা?
হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্য রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিসগড়ে মুখ্যমন্ত্রীদের শপথ নেওয়ার সময় বাস ও বিমানে চড়িয়ে নানা রাজ্য থেকে নেতা-নেত্রীদের আনার ব্যবস্থা করেছিল কংগ্রেস। কিন্তু সেই সব অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি মায়াবতী ও অখিলেশকে। যদিও মায়াবতীর সমর্থনেই কংগ্রেস সরকার গড়েছে মধ্যপ্রদেশে। কয়েকমাস আগে বেঙ্গালুরুতে কুমারস্বামীর শপথ উপলক্ষে যেমন বিরোধী ঐক্যের ছবি দেখা গিয়েছিল, তিন রাজ্যে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার সময় তেমন দেখা যায়নি। তখনই অনেকের সন্দেহ জাগে, দলিত নেত্রী অথবা অখিলেশ কি কংগ্রেসের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠতা করতে চান না?
উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধেছিলেন অখিলেশ। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে তিনি ‘ইউপি কে লড়কে’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ভোটাররা সদয় হননি কংগ্রেস-সপা জোটের প্রতি। তখন থেকে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে অখিলেশের। কিছুদিন আগে ডিএমকে-র এম কে স্ট্যালিন মন্তব্য করেন, ২০১৯-এ বিজেপি বিরোধী জোট ক্ষমতায় এলে রাহুল হবেন প্রধানমন্ত্রী। তখন সবার আগে প্রতিবাদ করেন অখিলেশ। তিনি বলেন, কারও ব্যক্তিগত মতের সঙ্গে জোটের মত নাও মিলতে পারে।
এর পরেই কয়েকটি সংবাদপত্রে লেখা হয়, আগামী ১৫ জানুয়ারি মায়াবতীর জন্মদিনে ঘোষণা করা হবে, বিএসপি এবং সপা জোট গড়ছে। তাতে কংগ্রেস থাকছে না। কংগ্রেস সঙ্গে সঙ্গে এই খবরের ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা বলে, সম্মানজনক সংখ্যক আসন না পেলে আমরাও কারও সঙ্গে জোট করব না।
বিএসপি নেতারা অবশ্য বলেছেন, কোথা থেকে সাংবাদিকরা এই খবর পেয়েছেন জানি না। আমাদের দলে এসম্পর্কে
কোনও আলোচনাই হয়নি।
আগামী জানুয়ারিতে ৬৩-তে পা দিচ্ছেন মায়াবতী। শোনা যাচ্ছে এবার তাঁর জন্মদিনে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। তাঁর বাড়ির দরজা খোলা থাকবে সবার জন্য। যে কেউ তাঁকে জন্মদিনে অভিনন্দন জানাতে পারবেন।