দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের কোনও আগ্রাসনই মানবে না ভারত। আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে কোনও আপোস নয়। চিনকে একটুও জমি ছাড়বে না ভারতের বাহিনী। দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লে তার যোগ্য জবাব পাবে চিন, স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিদেশসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স (আইসিডব্লিউএ)-এর বৈঠকে শ্রিংলা বলেছেন, “দেশের অখণ্ডতা সবচেয়ে আগে। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার সঙ্গে কোনও আপোস করা হবে না। ভারত যেহেতু দায়িত্বশীল দেশ তাই শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখবে। উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টাও করা হবে।” সেই সঙ্গেই বিদেশসচিবের বক্তব্য, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে যদি শান্তিপূর্ণ পথে হাঁটতে রাজি না হয় চিন, তাহলে ভারতও তার শক্তি দেখাতে পিছপা হবে না। সীমান্তে কোনওরকম আগ্রাসনকেই প্রশ্রয় দেবে না ভারতের সেনাবাহিনী।
সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘন করে ভারতে ঢুকে পড়া নিয়ে একাধিক বার চিনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ভারত। চলতি মাসের গোড়ার দিকে তা নিয়ে নতুন করে দু’দেশের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়। গত ৯ মে উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নাকু লা সেক্টরে চিনা বাহিনীর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন ভারতীয় জওয়ানরা। তাতে বেশ কয়েক জন আহতও হন। দু’পক্ষের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে সাময়িক ভাবে উত্তেজনা কমলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং জুন মাসের সংঘাতের পর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে প্যাঙ্গং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ সীমা এবং গালওয়ান উপত্যকায় সেনা মোতায়েন করেছে দু’পক্ষই।
শ্রিংলা বলেছেন, গত কয়েকদশক ধরেই দুই দেশের সীমান্ত সমস্যা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত সবসময়েই শান্তির পথে এগিয়েছে। কখনও চায়নি সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে দু’তরফের সেনারই প্রাণহানি হোক। কিন্তু তাই বলে অন্যায়ভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টাও মেনে নেওয়া হবে না।
সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য মস্কোতে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর বার্ষিক সম্মেলনে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল উই ফেঙ্গে। সীমান্ত সমস্যার শান্তিপূর্ণ মীমাংসার জন্য আলোচনা চলছে দু’তরফেই। এই বৈঠকেই চিনকে বার্তা দিয়ে রাজনাথ বলেছেন, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে গেলে সবচেয়ে আগে দরকার বিশ্বাস। দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে তখনই আসবে যখন বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা হবে। আগ্রাসন দেখিয়ে জবরদস্তি অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে, আন্তর্জাতিক নীতির সম্মান রক্ষিত হবে এবং বিশ্বাস রেখেই দুই দেশ শান্তির শপথ নেবে।
প্যাঙ্গংয়ে সংঘর্ষের পরে নয়াদিল্লির চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র জি রং বলেছিলেন, ভারতীয় সেনা এলএসি লঙ্ঘন করার ফলেই এমন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চিনের সেনা সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যদিও, চিনের বিদেশমন্ত্রী তথা স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনের কথা বলেছিলেন। মস্কোয় সাংহাই কোঅপারেশনের বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও যোগ দিতে পারেন বলে কথা আছে। ওয়াং ই-র সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ এবং বৈঠক হতে পারে। চলতি অশান্তির মধ্যেই অনেকবার ফোনে ও ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন ভারত এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী। আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তে সুস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।