লাটাই ছিল 'পুলিশেরই হাতে', চিনা মাঞ্জার কাটাকুটি ছাড়াই বিশ্বকর্মা পুজো কাটল কলকাতায়
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঞ্জা দৌরাত্ম্যের জেরে পুলিশি নজরদারি বাড়তেই হাতেনাতে ফল। আজ, শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কলকাতা রইল ঘুড়ির মাঞ্জা সংক্রান্ত ঘটনাহীন। এদিন রাত পর্যন্ত চিনা মাঞ্জা (Chinese Manja) নিয়ে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি কলকাতা পুলিশের
শেষ আপডেট: 17 September 2021 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঞ্জা দৌরাত্ম্যের জেরে পুলিশি নজরদারি বাড়তেই হাতেনাতে ফল। আজ, শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন কলকাতা রইল ঘুড়ির মাঞ্জা সংক্রান্ত ঘটনাহীন। এদিন রাত পর্যন্ত চিনা মাঞ্জা (Chinese Manja) নিয়ে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি কলকাতা পুলিশের কাছে।
ঘুড়ির সুতোয় দুর্ঘটনা রুখতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ, ট্রাফিক ও কেএমডিএ একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। গোটা মা ফ্লাইওভারকে স্ট্যান্ডিং পোল ও ফেন্সিং দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। এদিন দিনভর মা উড়ালপুলে পুলিশি প্রহরা ছিল। জায়গায় জায়গায় নজরদারি চলেছে।
কয়েকদিন ধরেই চিনা মাঞ্জা ধরপাকড় হয় কলকাতায়। মা উড়ালপুল সংলগ্ন থানা এলাকাগুলিতে পুলিশের তরফে মাইকিংও করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুধু ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য নয়, পাখি শিকারের ফাঁদ হিসেবেও ওই মাঞ্জা ব্যবহার করা হয়। ওই পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরেই ধারালো চিনা-মাঞ্জা সুতোয় অনেকের মারাত্মক জখম হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গলা কেটে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। মাঞ্জা-সুতোর মারাত্মক দিক নিয়ে চিন্তিত ছিলেন শহরের ঘুড়ি-বিক্রেতারাও। তাই বিক্রি তো দূরের কথা, চিনা মাঞ্জার ক্ষতিকর দিক নিয়ে অনেকেই সচেতন করেছেন ঘুড়িবাজ ছেলে-ছোকরাদের। দোকানের সামনে 'চিনা মাঞ্জায় দুর্ঘটনা' সংক্রান্ত খবরের 'পেপার কাটিং' সেঁটে রেখেছিলেন অনেকে।
ঘুড়িপ্রেমীরাও আনন্দে বিপদ ডেকে আনতে চাননি এবছর। তাই এ বছর ঘুড়ির বাজারে বরেলির নিরাপদ মাঞ্জা-সুতোরই রমরমা ছিল। তবে সূত্রের খবর, শহরের কিছু দোকানে লুকিয়ে-চুরিয়ে ওই মাঞ্জা সুতো বিক্রি হলেও, তা থেকে মুখ ফিরিয়েছেন সচেতন ঘুড়ি প্রেমীরা।
গত বছর চাইনিজ মাঞ্জায় ছেয়ে গিয়েছিল ঘুড়ির বাজার। রাসায়নিক আঠার সাহায্যে কৃত্রিম সুতোয় কাচের গুঁড়ো ধরিয়ে মাঞ্জা তৈরি ঘুড়ির পথিকৃত্ চিনাদেরই দুর্বুদ্ধি! ওই সুতোর সঙ্গে ঘুড়ির আকাশযুদ্ধে কিছুতেই পেরে উঠছিল না দেশীয় পদ্ধতির মাঞ্জা। দাম রাখা হয়েছিল বরেলির মাঞ্জা-সুতোর প্রায় অর্ধেক। যে কারণে জনপ্রিয় হয়েছিল চাইনিজ মাঞ্জা-সুতো। তবে এ বছর ওই সুতো বিক্রি করছেন না বলেই জানিয়েছেন ক্রিক রো, লেবুতলা, এন্টালির ঘুড়িপাড়ার বিক্রেতারা।
তবে এবছর দিনভর আকাশ অংশত মেঘলা থাকায় শহরের আকাশে ঘুড়ির লড়াই সেভাবে চোখে পড়েনি। যে কারণে বিশ্বকর্মা পুজোয় প্রশাসনও স্বস্তিতে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'