দ্য ওয়াল ব্যুরো : অর্থমন্ত্রক গত ৪ সেপ্টেম্বর যে সার্কুলার দিয়েছিল, তাতে বিভিন্ন অফিসের খরচ কমানোর কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে কর্মী নিয়োগ বন্ধ হবে না। শনিবারই প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, মোদী সরকার কেন্দ্রে নতুন নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাহুলের মন্তব্যের প্রতিবাদে টুইট করে ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেন্ডিচার।
টুইটে লেখা হয়েছে, "ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেন্ডিচার যে সার্কুলার দিয়েছে, তাতে অর্থমন্ত্রকের মধ্যে নতুন পদ তৈরি করা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু এর ফলে কোনওভাবে নিয়োগ বন্ধ হবে না।"
পরে বলা হয়েছে, "ভারত সরকারের কোনও পদে লোক নিতে বারণ করা হয়নি। স্টাফ সিলেকশন কমিশন, ইউপিএসসি, রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড ইত্যাদির মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই নিয়োগের প্রক্রিয়া চলবে।"
https://twitter.com/FinMinIndia/status/1302203999324483584
৪ সেপ্টেম্বরের সার্কুলারে ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেন্ডিচার কয়েকটি অনুন্নয়ন খাতে অর্থ ব্যয় নিষিদ্ধ করে। তাদের বক্তব্য ছিল, এর ফলে অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি খাতে আরও বেশি টাকা খরচ করা যাবে। ওই সার্কুলারেই বলা হয়েছিল, ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেন্ডিচারের অনুমতি ছাড়া কোনও মন্ত্রকে, দফতরে, সংশ্লিষ্ট অফিসে, অধীনস্থ অফিসে, বিধিবদ্ধ সংস্থায় বা স্বশাসিত সংস্থায় কর্মী নিয়োগ করা যাবে না।
ওই সার্কুলার নিয়েই শনিবার সরব হন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি এদিন হিন্দিতে টুইট করে বলেন, "মোদী সরকার মিনিমাম গভর্নমেন্ট, ম্যাক্সিমাম প্রাইভেটাইজেশনে বিশ্বাসী। কোভিড একটা ছুতো মাত্র। সরকার চায়, কোনও সরকারি অফিসে স্থায়ী চাকুরে থাকবে না। যুবকদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে। কেবল বিজেপির বন্ধুদের উন্নতি হবে।" এই মন্তব্যের সঙ্গে রাহুল খবরের কাগজের একটি কাটিং-এর ছবি স্ক্যান করে পোস্ট করেছেন। ওই কাগজে লেখা হয়েছে, খরচ কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে এখন নতুন কোনও পোস্ট তৈরি হচ্ছে না। ১ জুলাই থেকে কোনও মন্ত্রকে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে না। কোনও পদে নিয়োগ করা যদি নিতান্তই প্রয়োজন হয়, তাহলে আগে ব্যয় সংক্রান্ত দফতরের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হচ্ছে।
রাহুল এর আগেও অর্থনীতির 'বেহাল অবস্থা' নিয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, করোনা পরিস্থিতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। গত ৩০ অগাস্ট প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ঘোষণা করেন, তিনি দফায় দফায় ব্যাখ্যা করবেন, মোদী সরকার কীভাবে ভারতীয় অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। এর পরে তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, ২০১৬ সালে নোটবন্দি করা হয়েছিল বলেই জিডিপি-র রেকর্ড পতন হয়েছে। এর পাশাপাশি 'ভুলে ভরা জিডিপি আইনের জন্য' অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে যথেষ্ট। অর্থনীতির কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়েছে করোনা অতিমহামারী। তাতে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন।