দ্য ওয়াল ব্যুরো : 'ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত' দেওয়ার অভিযোগে জেলে আছেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান মুনাওয়ার ফারুকি। বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট জানিয়ে দিল, তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না। বিচারপতির বক্তব্য, এমন কোনও প্রমাণ নেই যাতে বলা যায়, ফারুকি ওই অপরাধ করেননি। কমেডিয়ান বলেছিলেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেননি। বিচারপতি বলেন, তদন্ত চলছে। আরও আপত্তিকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
গত ২ জানুয়ারি গ্রেফতার হন ফারুকি ও আরও চারজন। হিন্দু দেবদেবীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগ আছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ফারুকি বাদে বাকি ধৃতরা হলেন এডুইন অ্যান্টনি, নলিন যাদব, প্রখর ব্যাস এবং প্রিয়ম ব্যাস। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক মালিনী গৌড়ের ছেলে একলব্য সিং গৌড় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, "এখনও পর্যন্ত যা তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, প্রকাশ্য স্থানে স্ট্যান্ড আপ কমেডি-র নামে একটা সভা করা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে ভারতের একশ্রেণির নাগরিকের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়েছে।" ফারুকির কৌঁসুলি বলেন, তাঁর মক্কেলকে ওই শো-তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন বটে কিন্তু কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু বিচারপতি এই যুক্তি মানতে চাননি। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একই মামলা রয়েছে।
বিচারপতি রহিত আর্য বলেন, "অভিযোগকারী এবং সাক্ষীরা যে বিবৃতি দিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে যে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে মনে হয়, অভিযোগকারীর বক্তব্য সত্যি হতে পারে।"
হাইকোর্ট লক্ষ করেছে, অনেকেই অভিযোগ করেছে, ফারুকি গত ১৮ মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু দেবদেবীদের উদ্দেশে কটূক্তি করে চলেছেন। অনেকেই তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু ফারুকি তাতে বিরত হননি। বিচারপতি বলেন, "প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্য হল ধর্মীয়, ভাষাগত, আঞ্চলিক ও গোষ্ঠীগত সুসম্পর্ক বজায় রাখা।"
ধৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ করা হয়েছে। প্রথমত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ধর্মের মানুষকে আঘাত করা। তৃতীয়ত, ছোঁয়াচে রোগ থেকে সতর্কতা না নেওয়া। চতুর্থত, সরকারি কর্মীর আদেশ লঙ্ঘন করা।