দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার মুখ বন্ধ করা খামে অযোধ্যা নিয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তিন সদস্যের মধ্যস্থতাকারী প্যানেল। রিপোর্টের বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ্যে না এলেও একটি সূত্রে খবর, মধ্যস্থতাকারীরা বলেছেন, অযোধ্যা বিতর্কে জড়িত নানা পক্ষের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা কোনও ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ শুক্রবার রিপোর্টটি পড়ে দেখবে। তারপরে স্থির হবে, আগামী দিনে কী করা যায়।
হিন্দুদের দাবি, অযোধ্যায় বিতর্কিত স্থানে রামচন্দ্রের জন্ম হয়েছিল। সেখানে রামচন্দ্রের একটি মন্দির ছিল। সেই মন্দির ভেঙে ষোড়শ শতকে বাবরি মসজিদ গড়ে ওঠে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর সেই সৌধটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দেয়, বিতর্কিত জায়গাটি সমান তিন ভাগ করে হিন্দু, মুসলমান ও নির্মোহী আখড়ার হাতে দেওয়া হোক। এই রায়ের বিরুদ্ধে হিন্দু ও মুসলমান উভয় পক্ষই সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানায়। অযোধ্যা বিতর্ক আদালতের বাইরে যাতে মিটে যায়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্ট গত ৮ মার্চ তিন সদস্যের মধ্যস্থতাকারী প্যানেল তৈরি করে।
প্যানেলের শীর্ষে আছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এফ এম আই কলিফুল্লা। অপর দুই সদস্য হলেন প্রবীণ অ্যাডভোকেট শ্রীরাম পঞ্চু ও আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশংকর। প্রাথমিকভাবে প্যানেলকে ১০ মে অবধি সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগে প্যানেল কোর্টে অন্তর্বর্তী রিপোর্ট দাখিল করে। তাতে সুপ্রিম কোর্ট প্যানেলের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। স্থির হয়, প্যানেল চূড়ান্ত রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত আদালতে অযোধ্যা মামলার শুনানি বন্ধ থাকবে।
এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি পক্ষ জানায়, মধ্যস্থতাকারীদের প্যানেল এই বিতর্কের সমাধানে কোনও অগ্রগতি ঘটাতে পারছে না। তখন সুপ্রিম কোর্ট প্যানেলকে নির্দেশ দেয়, ৩১ জুলাই অথবা ১ অগাস্ট আমাদের জানাতে হবে, মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া কেমন এগোচ্ছে। তার ভিত্তিতে আমরা স্থির করব, এর পরে কী করা যায়। সেইমতো বৃহস্পতিবার রিপোর্ট জমা পড়েছে। যাঁরা রিপোর্ট খতিয়ে দেখবেন, তাঁদের মধ্যে প্রধান বিচারপতি বাদে আছেন বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এস আবদুল নাজির।