দ্য ওয়াল ব্যুরো : একসময় বিজেপির হয়ে নির্বাচনী কৌশল ঠিক করতেন প্রশান্ত কিশোর। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহের অনুরোধেই তিনি উঁচু পদ পেয়েছেন ইউনাইটেড জনতা দলে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার মঙ্গলবার নিজে জানিয়েছেন একথা।
দলে এখন নীতীশের পরেই স্থান প্রশান্ত কিশোরের। নীতীশের বক্তব্য, অমিত শাহ নিজে দু’বার ফোন করে তাঁকে বলেছিলেন, প্রশান্তকে আপনার দলে কোনও উঁচু পদ দিন।
নীতীশের কথায়, এই প্রথমবার আমি প্রকাশ্যে জানাচ্ছি, আমি একার সিদ্ধান্তে প্রশান্ত কিশোরকে দলে উঁচু পদ দিইনি। তার জন্য অমিত শাহ নিজে দু’বার আমাকে ফোন করেছিলেন। একইসঙ্গে নীতীশ জানান, তিনি নিজেও প্রশান্ত কিশোরকে পছন্দ করেন। তাঁকে তরুণদের দলে টেনে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতীশের মতে, যে তরুণরা রাজনৈতিক পরিবারে জন্মায়নি, তাদের পক্ষে রাজনীতিতে আসা কঠিন। প্রশান্ত কিশোর এখন তরুণ প্রতিভাদের দলে আনার চেষ্টা করছেন।
একসময় বিজেপি ও কংগ্রেস, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের হয়েই নির্বাচনী কৌশল বানিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে মোদীর হয়ে ‘চায় পে চর্চা’ নামে যে প্রচার হয়েছিল, তা প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্কপ্রসূত। ২০১৫ সালে বিহারে বিধানসভা ভোটে তিনি নীতীশ কুমারের হয়ে প্রচারের কৌশল স্থির করেন। তখন নীতীশ ছিলেন বিজেপির বিরোধী। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের ভোটে কংগ্রেসের প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ ও ’১৫ সালে সফল হলেও ’১৭ সালে তিনি সফল হতে পারেননি। উত্তরপ্রদেশের ভোটে কংগ্রেসের বিপর্যয় হয়েছিল।
নীতীশ বলেন, জেডি ইউতে যোগ দেওয়ার আগে প্রশান্ত কিশোর আমাদের কাছে একেবারে অপরিচিত ছিল না। মাঝে সে অন্য জায়গায় কাজ করত।
প্রশান্ত কিশোর যখন নীতীশের দলে যোগ দেন, তখন তিনি এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেসের হয়ে প্রচার করে যখন তিনি ব্যর্থ হলেন, তখন অমিত শাহ এবং নীতীশ কুমার, এনডিএ-র দুই শীর্ষ নেতার উদ্যোগেই প্রশান্ত কিশোর জেডি ইউতে যোগ দেন।
প্রশান্ত কিশোরের কথা উল্লেখ করে নীতীশ বোঝাতে চেয়েছেন, জেডি ইউয়ের মধ্যে কাকে কোন পদে নিয়োগ করবেন সে ব্যাপারেও তিনি অন্য দলের পরামর্শ মেনে চলেন।
নীতীশ এদিন বলেন, তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন, দলে তাঁর উত্তরসুরী কে। এক্ষেত্রে অন্যান্য দলের মতো তাঁর পরিবারের লোকেরাই অগ্রাধিকার পাবে না।