দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিহারে প্রথম দফার ভোট হয়ে গিয়েছে বৃহস্পতিবার। শুক্রবার বাল্মীকি নগরে এক নির্বাচনী জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বললেন, তিনি বিভিন্ন জাতের জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষণ চান। বিহারে ভোটের আগে বিভিন্ন জনসভায় রাজ্যে বেকারত্ব, অতিমহামারী, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশার মতো ইস্যুগুলি উঠে এসেছে। কিন্তু সংরক্ষণের প্রসঙ্গ উঠল এই প্রথম। এনডিএ জোটের মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী নীতীশ এদিন বলেন, "বিভিন্ন জাতের জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে। যদিও জনগণনা নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।"
বিরোধী রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে এদিন ফের জঙ্গল রাজের অভিযোগ তোলেন নীতীশ। সেই সঙ্গে বলেন, জিতলে ১০ লক্ষ চাকরি দেবেন বলে তেজস্বী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা মিথ্যা।
বুধবার বিহারে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে জঙ্গল রাজের প্রসঙ্গ তুলেই তেজস্বীকে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তেজস্বীকে তিনি বলেন 'জঙ্গল রাজ কি যুবরাজ'।
মুজফফরপুরে এক সভায় মোদী বলেন, তেজস্বী যাদবের বাবা লালুপ্রসাদ যাদব ও মা রাবড়ি দেবী ১৫ বছর বিহার শাসন করেছেন। তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে বিহার ফের অন্ধকারের যুগে ফিরে যাবে।
আরজেডি এবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্ষমতায় এলে ১০ লক্ষ চাকরি দেবে। মোদী বলেন, "সরকারি চাকরির কথা ভুলে যান। এমনকি যে বেসরকারি সংস্থাগুলি মানুষকে চাকরি দেয়, তারাও রাজ্য থেকে চলে গিয়েছিল।" মোদীর বক্তব্য, তোলাবাজি ও অপহরণের ভয়েই কেউ বিহারে বিনিয়োগ করতে চাইত না।
আরজেডি নেতার কথায়, "মোদী হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি যা খুশি তাই বলতে পারেন। আমি তাঁর কথার জবাব দিতে চাই না। কিন্তু বিহারে এসে তিনি স্পেশাল প্যাকেজ, বেকারত্ব ও অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নিয়ে বলতে পারতেন।"
পরে তিনি বলেন, "বিজেপি হল বিশ্বের বৃহত্তম দল। তারা ৩০ টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। যদি সেই দলের প্রধানমন্ত্রী এমন কথা বলেন, মানুষ সব বুঝতে পারে। কিন্তু তিনি দারিদ্র, কারখানা, চাষি, বেকারত্বের বিষয় নিয়ে বললে ভাল হত।"
২০১৫ সালে লালুপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে মহাজোট করে মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ। পরে সেই জোট ভেঙে দিয়ে এনডিএতে শামিল হয়ে যান তিনি। অনেকের মতে, জনাদেশ নিয়ে উল্টো শিবিরে ভিড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়তে পারে এবারের ভোটে। যাদব ও মুসলিম ভোট নীতীশের বিরুদ্ধে যেতে পারে বলে মত অনেকের।