রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কাজে যুক্ত কর্মীদের নিয়ে এই বৈঠকে মূলত তৃণমূল সরকারের গত পনেরো বছরের শাসনকালকে নিশানা করে বিধানসভা ভোটের (Assembly Election) প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।

নিতিন নবীন
শেষ আপডেট: 22 January 2026 15:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় সভাপতি পদে বসেই সংগঠনে গতি আনতে তৎপর বিজেপি (BJP News)। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় সাংগঠনিক বৈঠকেই পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) সামনে রেখে নির্বাচনী রণকৌশলের রূপরেখা তৈরি করলেন নবনিযুক্ত বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কাজে যুক্ত কর্মীদের নিয়ে এই বৈঠকে মূলত তৃণমূল সরকারের গত পনেরো বছরের শাসনকালকে নিশানা করে বিধানসভা ভোটের (Assembly Election) প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
বৈঠকে কী কী আলোচনা হল?
সূত্রের দাবি, বৈঠকের কেন্দ্রে ছিল রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও তা বুথ এবং বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ভাবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরার কৌশল। নেতৃত্বের বক্তব্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয় দেশের নীচের সারিতে। এই বৈপরীত্যকে তৃণমূল সরকারের নীতি-অচলাবস্থা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল হিসেবে তুলে ধরার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়েও আলোচনা
প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির কার্যত ভেঙে পড়া, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাব, ওষুধের সংকট ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ— এই সব বিষয় গ্রাম ও মফস্বলে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি করেছে বলে দাবি বিজেপির। স্থানীয় স্তরে ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে এই অসন্তোষকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মহাজঙ্গলরাজ
শিক্ষাব্যবস্থার অবনমনও উঠে আসে আলোচনায়। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শিক্ষার মান ও ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুযোগ ক্রমশ কমছে। পাশাপাশি নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। দলের মতে, রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ক্রমেই প্রশ্নের মুখে, অপরাধ বাড়ছে এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলছে। শুধু তাই নয়, বৈঠকে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সংখ্যালঘু তোষণের অভিযোগও উঠে আসে। বিজেপির ভাষায়, রাজ্যে ‘জঙ্গলরাজ’-এর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শাসন ব্যবস্থাকে দুর্বল করছে।
ভোটের বার্তায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার প্রতিশ্রুতিও সামনে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নেতৃত্বের ধারণা, সীমান্তবর্তী জেলা থেকে শহরাঞ্চল— সব ক্ষেত্রেই এই ইস্যু ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিধানসভা ভিত্তিক চার্জশিট
সংগঠনিকভাবে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা ‘চার্জশিট’ তৈরির কথা জানানো হয়েছে। তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতার তালিকা থাকবে। জনসভায় এই চার্জশিট প্রকাশের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছে, যাতে বর্তমান বিধায়কদের সরাসরি দায়ী করা যায়।
বৈঠকে আরও চূড়ান্ত হয়েছে নির্বাচনের মূল স্লোগান, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মালদহের সভা থেকে উঠে আসা এই স্লোগানই হবে বিজেপির প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু। সভা, কর্মসূচি ও প্রচারগানের মাধ্যমে এই বার্তা রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চলেছে বিজেপি।