দ্য ওয়াল ব্যুরো : অনেকের ধারণা, মাসে রাজনীতিকরা আয় কোটির ঘরে আয় করেন। কিন্তু বাস্তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করির (Nitin Gadkari) আয় লাখের কোঠায়। তাঁর ইউটিউব ভিডিও থেকে একথা জানা গিয়েছে। গড়করি নিজে সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি প্রতি মাসে ইউটিউব থেকে রয়ালটি বাবদ পান চার লক্ষ টাকা। কারণ অতিমহামারীর সময় ইউটিউবে তাঁর ভাষণ শুনেছেন বহু মানুষ। গড়করির ঘনিষ্ঠরা বলেন, খুব কম মানুষই ইউটিউব থেকে এত বেশি আয় করতে পারে। আসলে, গড়করির অনুরাগীর সংখ্যা বিপুল। গড়করি যে কোনও বিষয়ে খুব খোলামেলা বক্তব্য পেশ করেন। অনুরাগীরা মন্ত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য অপেক্ষা করেন।
মন্ত্রী গত দু'বছরে অনেকগুলি ভাষণের ভিডিও রেকর্ড ইউটিউবে আপলোড করেছেন। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ জানিয়েছেন, মন্ত্রী নাগপুরেই থাকুন কিংবা দিল্লিতে, রোজ পাঁচ থেকে সাতটা ওয়েবিনারে অংশ নেন। অতিমহামারীর সময় তিনি প্রায় দেড় হাজার ভাষণ ইউটিউবে আপলোড করেছেন।
অতিমহামারী ঠেকাতে লকডাউন জারি হওয়ার পরেই গড়করি তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতা ইউটিউবে আপলোড করতে থাকেন। ২০২০ সালের ২ এপ্রিল থেকে গড়করি প্রায় দেড় হাজার ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। দেশে ও বিদেশে কয়েক কোটি মানুষ তাঁর ভাষণ শুনেছেন।
টুইটারে গড়করির ফলোয়ারের সংখ্যা ৯২ লক্ষ। ফেসবুকে ফলোয়ারের সংখ্যা ১৬ লক্ষ। ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার আছেন ১৩ লক্ষ। ইউটিউবে ফলোয়ার আছেন ২ লক্ষ। বিপুল সংখ্যক মানুষ গড়করির বক্তৃতা শোনেন বলেই ইউটিউব তাঁকে প্রতি মাসে টাকা দেয়।
মন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে মাল্টিজিম, রান্নাবান্না, থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতি, নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ ও আরও নানা বিষয়ে ভাষণ দিয়েছেন। গড়করি নিজেই জানিয়েছেন, তিনি খাদ্যরসিক। অতিমহামারীর সময় তিনি নিজেই বাড়িতে রান্না করেছেন। ২০১৫ সালে তাঁর ইউটিউব চ্যানেল শুরু হয়। অতিমহামারীর সময় তিনি ইউটিউবে আরও বেশি অ্যাকটিভ হয়ে ওঠেন। তাঁর ভাষণ, সাংবাদিক বৈঠক ও বিভিন্ন চ্যানেলে দেওয়া বাইট হাজার হাজার মানুষ শুনতে থাকেন। অনেকে তাঁর ভিডিও ট্যাগ করেন। ফলে ভিউয়ারশিপ বেড়ে যায়।
অতিমহামারীর সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন মন্ত্রীকে ভাষণ দিতে ডেকেছিল। সেই বক্তৃতাগুলিও গড়করি ইউটিউবে আপলোড করেছেন। বিভিন্ন ভার্চুয়াল বক্তৃতায় গড়করি মানুষের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছে, দুর্যোগকে সুযোগে পরিণত করুন। ওয়েবিনারের মাধ্যমে মন্ত্রী বিভিন্ন চেম্বার অব কমার্স, ইকনমিক ফোরাম, ছাত্রসংগঠন ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।