
শেষ আপডেট: 19 August 2023 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিএসি রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন কেন্দ্রের সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি (nitin gadkari)। সেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই প্রবীণ মন্ত্রীর দাবি, ভারতমালা প্রকল্পে এক টাকারও অনিয়ম কেউ প্রমাণ করতে পারলে যে কোনও সাজা মাথা পেতে নেব।
কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের অফিস যারা সরকারি টাকা খরচের হিসাব পত্র খতিয়ে দেখে বা অডিট করে তারা গত ১০ আগস্ট সংসদে পেশ করা রিপোর্টে ভারতমালা প্রকল্পের কয়েক হাজার কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ করেছে। তারা বলেছে, ওই প্রকল্পে যে খরচ ধরা হয়েছিল তুলনায় তার কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করেছে সরকার। কিন্তু মন্ত্রকের সদুত্তর মেলেনি।
সিএজি-র ওই রিপোর্টে নরেন্দ্র মোদী সরকারের আরও ছয়টি মন্ত্রকের কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অর্থ অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে গড়করির সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের বিরুদ্ধেই। সিএজি বলেছে, দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সূচনায় প্রতি কিলোমিটার রাস্তার জন্য খরচ ধরা হয়েছিল ২০ কোটি টাকা। সেখানে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে এই বিপুল ব্যয়ের কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। সিএজি গুরুতর অভিযোগ তুলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিরুদ্ধেও। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে গরমিলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছে তারা। এখন দেখার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবিয়া সড়ক পরিবহণ মন্ত্রীর মতো নিজেই মুখ খোলেন কিনা। স্বাস্থ্যমন্ত্রক অবশ্য রিপোর্ট ভিত্তিহীন বলেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও মুখ খোলননি।
তিনি বলেন, রাস্তার প্রতি কিলোমিটারের খরচ ২০ কোটি ধরা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু রাস্তায় অসংখ্য উড়ালপুর, রিং রোড, আন্ডারপাস তৈরি করতে হয়েছে। সেগুলির এক-একটির খরচ দু’শো-আড়াইশো কোটির বেশি। সব মিলিয়ে ব্যয় হওয়া অর্থকে রাস্তার কিলোমিটারের হিসাবে ভাগ করলে আডাইশো কোটি হতেই পারে। কিন্তু বাস্তবে রাস্তার অংশে ব্যয় কুড়ি কোটি টাকার কম হয়েছে। ১২ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা গেছে।
গড়করি শনিবার আরও বলেন, সিএজির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে গোটা বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয় এবং তারা মন্ত্রকের ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের হল, আমার মন্ত্রকের অফিসারেরা সিএজিকে এই ব্যাখ্যা লিখিতভাবে পাঠাননি।
সূত্রের খবর, গড়করি শুধু অফিসারদের দিকে আঙুল তুলেছেন তাই-ই নয়, ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি বলেছেন, সিএজি রিপোর্টে ভারতমালা প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
আসলে গড়করি ‘কাজের মন্ত্রী’ হিসাবে শাসক এবং বিরোধী দুই শিবিরেই সমাদৃত। তাই-ই শুধু নয়, বিরোধীদের নির্বাচনী এলাকাতেও তিনি সমান দৃষ্টি দেন বলে বারে বারে প্রশংসা শোনা গিয়েছে। সংসদে দাঁড়িয়ে স্বয়ং সনিয়া গান্ধী নাগপুরের এই বিজেপি নেতার কাজের প্রশংসা করেছেন। শুধু তাই নয়, সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনে বিরোধীরা মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিবৃতি দাবি করে ওয়াকআউট করছিল। তারই মধ্যে গড়করির মন্ত্রকের একটি বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধীরা অংশ নেয়। অন্যদিকে, গড়করি প্রকাশ্যে একাধিকবার দাবি করেছেন, ভাল কাজের জন্যই মানুষ তাঁকে ভোট দেবেন। তিনি কারও কাছে ভোট ভিক্ষা করবেন না।
বিজেপির অন্দরমহলের খবর, গড়করির অনুগামীদের ধারণা, ভাল কাজের সুবাদে মন্ত্রীর জনপ্রিয়তা, বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়ে থাকতে পারে। কারণ, সিএজি’কে লিখিতভাবে জবাব না দিলে তারা মন্ত্রকের ব্যাখ্যা ছাড়াই রিপোর্ট প্রকাশ করে দেবে এটা অফিসারদের না জানার কথা নয়।
আর এক ‘আনন্দ বোস’ বিহারে, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে রাজ্যের নির্দেশ বদলে দিচ্ছেন রাজ্যপাল