দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে বিজেপির খারাপ ফলের পরে কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি বলেছিলেন, হারের দায় নিতে হবে নেতৃত্বকে। গড়কড়ি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওরকম মন্তব্য করায় সাড়া পড়ে গিয়েছিল বিজেপির অন্দরে। সোমবার তিনি ফের বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, এমএলএ বা এমপি-রা যদি কাজ করতে না পারেন, তার দায়িত্ব নিতে হবে দলের সভাপতিকেই।
এদিন নীতিন ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর প্রথম সারির অফিসারদের সামনে ভাষণ দেন। তাঁর কথায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাফল্য নির্ভর করে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের ওপরে। যথাযথ প্রশিক্ষণ থাকা খুবই জরুরি। আমি মনে করি, আইএস এবং আইপিএস অফিসারদের বেশিরভাগই সৎ। তাঁরা ভালো কাজ করছেন। কিন্তু আমি যদি দলের সভাপতি হই এবং আমার বিধায়ক বা সাংসদরা কাজ না করতে পারে, তাহলে দায়ী হব আমিই। তার মানে আমিই তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে পারিনি।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এইভাবে গড়কড়ি মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিসগড়ে পরাজয়ের জন্য বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে দায়ী করেছেন।
একই সভায় গড়কড়ি বলেন, সহিষ্ণুতা ভারতীয় সংস্কৃতির অঙ্গ। এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, নেহরু বলতেন, প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভাবতে হবে, আমি যেন দেশে কোনও সমস্যা সৃষ্টি না করি। আমি নিজেও তাই ভাবি। প্রত্যেকে যদি অমন ভাবে, তাহলে অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের সাক্ষাৎকারের পরে দেশে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেই প্রেক্ষিতেই গড়কড়ি ওই মন্তব্য করেছেন বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। নাসিরুদ্দিন শাহ বলেছিলেন, এই দেশে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে গরুর জীবনের মূল্য কোনও পুলিশকর্মীর জীবনের চেয়েও বেশি। তার পরে বিজেপির উত্তরপ্রদেশ শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতা মহেন্দ্র নাথ পাণ্ডে পরোক্ষে তাঁকে পাকিস্তানের দালাল বলেন। নবনির্মাণ সেনা নামে একটি সংগঠন তাঁকে পাকিস্তানের ওয়ান ওয়ে টিকিট কেটে পাঠিয়ে দেয়।
গত সপ্তাহে পুনেয় ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের এক অনুষ্ঠানে গড়কড়ি বলেছিলেন, নেতৃত্বের উচিত পরাজয়ের দায় নেওয়া। পর্যবেক্ষকদের ধারণা হয়, তিনি তিন রাজ্যে পরাজয়ের জন্য বিজেপি নেতৃত্বকে দায় নিতে বলেছেন। পরে গড়কড়ি অবশ্য বলেন, মিডিয়ায় আমার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমার পুরো ভাষণ কেউ পড়ে দেখতে পারেন। আমি ব্যঙ্কিং নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। কিন্তু একশ্রেণির মিডিয়া আমার মন্তব্যকে রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করেছে।
পরে তিনি টুইটারেও লেখেন, মিডিয়া চেষ্টা করছে যাতে আমার সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের বিভেদ সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু তারা সফল হবে না।