দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রে মোদী জমানার প্রথম মেয়াদেই ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। দেশের প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হয়েছিলেন নির্মলা সীতারমন।
এ বার ফের ইতিহাস গড়লেন নির্মলা। স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা অর্থমন্ত্রী হলেন তিনি। রাইসিনা হিলের সাউথ ব্লক থেকে নর্থ ব্লকে আনা হল তাঁকে। তবে বিগ ফোরে তাঁর আসন রইল অটল।
বিজেপি-তে অনেক ব্যাপারেই ফার্স্ট গার্ল নির্মলা। ২০০৭-২০০৮ সালের কথা। কেন্দ্রে বিজেপি তখন বিরোধী আসনে। দলের সভাপতি রাজনাথ সিংহ। অরুণ জেটলিরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতেন যে, কেন্দ্রীয় সংগঠনে একজন ঝাঁঝালো ও বলিষ্ঠ মহিলা মুখপাত্র নেই। যিনি বেশ বলিয়ে কইয়ে হবেন। সুষমা-উমা ভারতীদের তো টেনে মুখপাত্র স্তরে আনা যায় না। এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই ২০০৮ সালের শেষ দিকে কর্নাটকে বিজেপি-র জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক চলাকালীন সেই প্রথমবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে পড়ে যান নির্মলা। উচ্চ শিক্ষিত এবং যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারেন। দিল্লি ফিরে এসে জেটলিই রাজনাথকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, নির্মলাকে জাতীয় স্তরে মুখপাত্র করা হোক।
বিজেপি-তে এর পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি নির্মলাকে। মোদীর প্রথম মেয়াদেই বাণিজ্য মন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। পরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। আর এ বার অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁর উপর দিলেন মোদী। আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল মোদী-অমিত শাহর কতটা আস্থাভাজন তিনি।
তবে ক্ষমতার অলিন্দে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, নির্মলার হাতে থাকবে কী?
কেন? তাঁদের বক্তব্য, প্রথম মেয়াদে নির্মলা যখন বাণিজ্য মন্ত্রকে ছিলেন তখন বকলমে তাঁর মন্ত্রক চালাতেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। পরে নির্মলা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব নেওয়ার পর মোটামুটি ভাবে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকেই মন্ত্রক চালানো হত বলে বিস্তর আলোচনা হয়েছে পাওয়ার করিডরে। অনেকের মতে, এ বারও অর্থমন্ত্রকের সচিবরাই প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে মন্ত্রক চালাবেন। নির্মলা সামনে থাকবেন মাত্র। মোদী-শাহ-র অন্তত এই ভরসা থাকবে যে তাঁদেরকে অন্ধকারে রেখে অর্থমন্ত্রী আগ বাড়িয়ে কোনও উদ্যোগ নেবেন না। এবং হ্যাঁ অবশ্যই দুর্নীতির আশঙ্কাও থাকবে না।
দলের ভিতরে এবং বাইরে, দু'তরফেই তাঁর সততা এবং ভাবমূর্তি নিয়ে এখনও কোনও প্রশ্ন ওঠেনি।