দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাঁসি হতে আর ঘণ্টা তিনেক বাকি। সেই ফাঁসি, যার জন্য আট বছর ধরে লড়াই করছে নৃশংসতম উপায়ে ধর্ষিত এক তরুণীর পরিবার। সেই ফাঁসি, যার জন্য আট বছর ধরে প্রতীক্ষা করে রয়েছে দেশের প্রায় প্রতিটা মানুষ। সেই ফাঁসি, যে ফাঁসি নিশ্চিত হওয়ার পরেও পিছিয়ে গিয়েছে তিন-তিন বার। নির্ভয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চার অপরাধীর সেই বহু প্রতীক্ষিত ফাঁসিই হওয়ার কথা শুক্রবার, ভোর সাড়ে
পাঁচটায়। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে ফের নতুন নাটকের পর্ব তৈরি হল দিল্লির আদালতে। এক একটা মিনিট যেন সাসপেন্স উপন্যাসের এক একটা পাতা!
রাত ১২টা থেকে এখন পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটল, দেখে নিন একনজরে।
ভোর ০৫:৩০- ফাঁসি হল নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার অপরাধী পবন গুপ্ত, মুকেশ সিং, অক্ষয় ঠাকুর ও বিনয় শর্মার। ভারতের ইতিহাসের ঐতিহাসিক ফাঁসির সাক্ষী হল দেশবাসী।
ভোর ০৫:২৬- ফাঁসির দড়ি পরানো হল অপরাধীদের গলায়।
ভোর ০৫:২০- তিহাড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, কড়া চোখ ফাঁসির দিকে।
ভোর ০৫:০৩- ফাঁসির ঘরে নিয়ে যাওয়া হল তাদের।
ভোর ০৫:০০- হাত বাঁধা হল অপরাধীদের। এখনও ঢাকা হয়নি মুখ।
ভোর ০৪:৪৪- তিহাড় জেলের বাইরে লোকে লোকারণ্য। ফাঁসির খবর নিতে এসেছে উৎসুক জনগণ।
ভোর ০৪:৪২- অপরাধীদের বলা হল, ১০-১৫ মিনিট প্রার্থনা করতে।
ভোর ০৪:৩৯- শারীরিক পরীক্ষা সারা হল অপরাধীদের। চিকিৎসক ফিট ঘোষণা করলেন।
ভোর ০৪:৩৪- অপরাধী বিনয় অনুমতি চাইল, আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার।
ভোর ০৪:১৭- জেলের ডেপুটি সুপার এসে পৌঁছলেন অপরাধীদের কারাগারে।
ভোর ০৪:১১- নতুন কুর্তা-পাজামা পরানো হল চার অপরাধীকে।
রাত ০৩:৫৩- সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়ে দিলেন, অনুমতি মিলবে না পরিবারের সঙ্গে দেখা করার। তেমনটা আইনত করা যায় না।
রাত ০৩:৫০- লক করে দেওয়া হল তিহাড় জেল। শুরু হল ফাঁসির প্রস্তুতি।
রাত ০৩:৪৯- অপরাধীদের আইনজীবী আদালতে আবেদন জানালেন, ফাঁসির আগে যেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ৫-১০ মিনিটের জন্য দেখা করার অনুমতি পায় অপরাধীরা।
রাত ০৩:৩৯- রাষ্ট্রপতির ক্ষমাভিক্ষার আর্জি খারিজ করার বিরুদ্ধে পবনের চ্যালেঞ্জকে মান্যতা দিল না সুপ্রিম কোর্ট। ঘোষণা করল, আর দু'ঘণ্টা পরে, ঠিক সাড়ে পাঁচটাতেই ফাঁসি হবে।
রাত ০৩:৩৫- পবন কুমারের আবেদন এবং আইনজীবীর দৃষ্টান্ত খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট।
রাত ০৩:২৭-পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে দোষীদের সাজা মকুবের আবেদন জানালেন আইনজীবী এপি সিং।
রাত ০৩:২৪- পুলিশি হাফাজতে কেমন অত্যাচার চলেছে, তা রেকর্ড করে রাখতে চায় সে। তাই জন্য দু-এক দিন সময় দাবি করল আদালতে।
রাত ০৩:২০- পবনের নাবালকত্বের আবেদন আবারও খারিজ করল আদালত।
রাত ০৩:০৫- কীসের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমাভিক্ষার আর্জি খারিজকে চ্যালেঞ্জ করেছে পবন, জানতে চাইল আদালত।
রাত ০৩:০৩- সুপ্রিম কোর্ট জানাল, এই আবেদন আগেই শোনা এবং খারিজ করা হয়ে গেছে।
রাত ০২:৫৫- শুরু হল পবনের আর্জি শোনা। সে দাবি করল, ঘটনার সময়ে নাবালক ছিল।
রাত ০২:৫২- করোনা সংক্রমণের কারণে কোর্টে ঢুকতে বাধা দেওয়া হল দোষীদের আইনজীবী এপি সিংয়ের জুনিয়রদের। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এপি সিং।
রাত ০২:৪৩- এসে পৌঁছলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
রাত ০২:৪০- জাস্টিস আর বানুমতীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পবনের আর্জি শুনবেন বলে জানালেন। রাষ্ট্রপতির কাছে করা দ্বিতীয় ক্ষমাভিক্ষার আর্জি খারিজকে চ্যালেঞ্জ করে আধালতে আবেদন করেছে পবন।
রাত ০২:৩০- শুরু হল শুনানি।
রাত ০২:১৫- নির্ভয়ার মা-বাবা পৌঁছলেন আদালতে।
রাত ০২:০০- নির্ভয়ার মা আশাদেবী বললেন, যতই চেষ্টা করুক, এবার আর পার পাবে না ধর্ষকরা।
রাত ০১:৩০- ফাঁসির সাজা স্থগিত করার আবেদন জানালেন আইনজীবী।
রাত ০১:০০- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের বাড়ি যাওয়ার জন্য রওনা দিলেন নির্ভয়া দোষীদের আইনজীবী এপি সিং।
রাত ১২:৩০- অপরাধীদের আইনজীবী এপি সিং বললেন তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
রাত ১২:০০- ফাঁসি স্থগিত করার জন্য তিন অপরাধীর আবেদন খারিজ করল দিল্লির কোর্ট।