দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কতবার নিজেকে নাবালক বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে নির্ভয়া-কাণ্ডের অপরাধী পবনকুমার গুপ্ত! এই মর্মে তাকে ভর্ৎসনা করে ফাঁসির সাজা মকুবের আবেদন খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়েছে, প্রতিবারই এই একই কথা বলছে অপরাধী।
বস্তুত, নির্ভয়া-অপরাধীদের ফাঁসির সাজা কার্যকরী হতে আর দিন দশেক বাকি। ইতিমধ্যেই একবার ফাঁসির দিন পিছিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রীতিমতো দরাদরি করার মতো বারবার নানারকম আবেদন করছে অপরাধীরা। কখনও ফাঁসির সাজা মকুবের আবেদন করছে সুপ্রিম কোর্টে, কখনও প্রাণভিক্ষা আবেদন করছে রাষ্ট্রপতির কাছে। কখনও আবার আবেদন করছে, ঘটনার সময়ে এক অপরাধী নাবালক ছিল বলে। প্রতিবারই এই সব আবেদন খারিজ হচ্ছে, কিন্তু তা করতে গিয়ে খানিকটা করে সময় নষ্ট হচ্ছে।
এর আগেই দিল্লি হাইকোর্টে অপরাধী পবনের আবেদন ছিল, নির্ভয়াকে ধর্ষণ করে খুন করার নৃশংস ঘটনার সময়ে সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। তাই অন্যদের সমান শাস্তি তার জন্য নয়। স্কুলের সার্টিফিকেট দেখিয়ে তার আইনজীবী প্রমাণ দেয়, নির্ভয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তখন সে নাবালক ঠিল। তাই মকুব করা হোক ফাঁসির সাজা। আদালত খতিয়ে দেখে জানিয়ে দেয়, তার বয়সের শংসাপত্র বলছে ২০১২-য় পবনের বয়স ছিল ১৮। অর্থাৎ সে সাবালক হয়ে গেছিল তখন। ফলে খারিজ হয় আবেদন। আবারও একই আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ পবন গুপ্তের আইনজীবী।
তার এই আচরণের বিরোধিতা করে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা সওয়াল করেছেন, পবন ক্রমাগত নিজেকে নাবালক প্রমাণে মরিয়া। আর বিচারের প্রত্যেক ধাপে আলাদা আলাদা ভাবে একই কাজ করছে সে। এভাবে বারবার তাকে সুযোগ দেওয়া হলে রীতিমতো প্রহসনে পরিণত হবে বিচার ব্যবস্থা। অন্যায় হবে নির্ভয়ার সঙ্গে। তুষার মেহতার আরও দাবি, নির্ভয়ার উপরে যেভাবে অত্যাচার হয়েছিল তা কোনও ভাবেই নাবালকের আচরণ ছিল না। তাছাড়া পবনের বাবা-মা স্বীকার করে নিয়েছিলেন, তাঁদের ছেলের বয়স ১৮।
এসবের পরেও, গত শুক্রবার ফের একই আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পবন। বিষয়টি রীতিমতো বিরক্তি উদ্রেক করছে সুপ্রিম কোর্টের। সেই বিরক্তি সহকারেই আরও একবার খারিজ করে দেওয়া হয়েছে তার আবেদন।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির মুনিরকা এলাকায় চলন্ত বাসের ভিতরে গণধর্ষণ করা হয়েছিল ২১ বছরের প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে। নৃশংসতার চরমে পৌঁছয় নির্যাতন, তার পরে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় বাস থেকে। কয়েক দিনের লড়াইয়ের পরে মারা যায় সে। ক্ষোভে-বিদ্রোহে গর্জে উঠেছিল সারা দেশ। অপরাধীরা গ্রেফতার হওয়ার পরে তাদের ফাঁসির দাবিতে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে গেছেন নিহত ছাত্রীর মা আশাদেবী। দীর্ঘ আট বছর পরে সে শাস্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
সব ঠিক থাকলে আগামী মাসের ১ তারিখে ভোর ছ'টায় ফাঁসি দেওয়া হবে চার ধর্ষককে।