দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানটান উত্তেজনা, রোমহর্ষক ক্লাইম্যাক্সের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাড়ি ফিরলেন নিমতার ওলাইচণ্ডীতলার বাসিন্দা তমাল ভট্টাচার্য। রবিবার রাত সাড়ে দশটার বিমানে আফগানিস্তান থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছন তিনি। এর পরে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যে দিয়ে নিজের বাড়িতে পৌঁছন স্কুলশিক্ষক তমাল।
চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি নিমতা থেকে গিয়েছিলেন কাবুলে। পেশাগত কারণেই যেতে হয়েছিল। তখন সব ঠিকই ছিল। কিন্তু অগস্ট মাস থেকেই দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনাতে শুরু করে। শেষমেশ ১৫ অগস্ট কাবুল দখল করে ফেলে তালিবান। তার পরেই শুরু দুশ্চিন্তার প্রহর।
একদিকে কাবুলে রীতিমতো আতঙ্কে দিন কেটেছে তমালের, অন্যদিকে দুশ্চিন্তায় প্রায় খাওয়াদাওয়া বন্ধ হতে বসে নিমতার ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যদের। অবশেষে এক সপ্তাহ পরে সুস্থভাবে ঘরে ফিরেছে ঘরের ছেলে। পরিবারের উচ্ছ্বাস যেন আর বাঁধ মানছে না।
ছেলেকে কাছে পেয়ে আনন্দে উদ্বেল তমালের বাবা শ্যামল ভট্টাচার্য। কোনও রাখঢাক না করে তিনি বলেই দিলেন, অনেকদিন পর ছেলের জন্যই একটু ভাল-মন্দ খাবেন।
ছেলে বাড়ি আসার খবরে সকাল থেকেই রান্নাঘরে ব্যস্ত মা মিনতি ভট্টাচার্য। চিংড়ি, খাসির মাংস-সহ ছেলের পছন্দের মেনু তৈরিতে ব্যস্ত তিনি। তবে সেই সঙ্গেই, আফগানিস্তানে এখনও আটকে পড়া অসংখ্য ভারতীয়দের দেশে ফেরা নিয়ে চিন্তায় মিনতি দেবী।
তমালবাবুর ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্থানীয় মানুষজনও। সংবাদমাধ্যমের তরফেও ছিল কৌতূহল। তাই আজ, সোমবার সকাল থেকেই নানা মানুষের আনাগোনা শুরু হয় তাঁর বাড়িতে।
সুস্থভাবে দেশে ফিরে আসায় ভারতীয় বিমানবাহিনী এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তমাল ভট্টাচার্য। যদিও আফগানিস্তানে তালিবানি সন্ত্রাসের কথা অনেক শুনলেও বা টিভিতে দেখলেও, তাঁর ওপর এমন কোনও অত্যাচার হয়নি বলেই জানান তমাল। তবে তিনি আগামী দিনের ফের আফগানিস্তানের ফিরে যাবেন কিনা, সে ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। কারণ ইতিমধ্যে মঙ্গোলিয়াতে তার চাকরির প্রস্তাব এসেছে।