দ্য ওয়াল ব্যুরো : 'পুরোদস্তুর গুন্ডারাজ। বিজেপি ভোটের ফলাফলে কারচুপি করতে চাইছে।' মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করলেন পিডিপি নেত্রী তথা জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। মঙ্গলবার কাশ্মীরে জেলা উন্নয়ন পরিষদে ভোটের গণনা হবে। পিডিপি-র অভিযোগ, সোমবারই তাদের দলের তিন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত পুলিশ এসম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেনি।
যে পিডিপি নেতারা বন্দি হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে আছেন নইম আখতার, মেহবুবা মুফতির কাকা সরতাজ মাদনি এবং মুফতির প্রাক্তন রাজনৈতিক উপদেষ্টা পিরজাদা মনসুর হুসেন। পিডিপি জানিয়েছে, গান্দেরবাল জেলায় তাদের দলের সভাপতি বশির আহমেদ মিরেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত তিনিও বন্দি হয়েছেন। মুফতি টুইট করে বলেছেন, "কেন আমাদের দলের নেতাদের বন্দি করা হল তা রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় পুলিশ অফিসাররাও জানেন না। তাঁরা বলছেন, উপর সে অর্ডার আয়া।" মুফতির দাবি, জম্মু-কাশ্মীরে এখন আইনের শাসন নেই। পুরোপুরি গুন্ডারাজ চলছে।
সোমবার সন্ধ্যায় নইম আখতারের গ্রেফতারের খবর পাওয়ার পরে মুফতি টুইটারে লেখেন, "জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। পিডিপি-র নইম আখতারকে অপহরণ করেছে পুলিশ। তাঁকে এমএলএ হস্টেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে বিজেপি জেলা উন্নয়ন পরিষদের ভোটে কারচুপি করতে চায়। কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে, সেজন্য এত লোককে গ্রেফতার করছে।" পরে তিনি লেখেন, "জম্মু-কাশ্মীরে গণতন্ত্রকে খুন করা হয়েছে।"
সোমবার রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ নইম আখতারের মেয়ে শেহরিয়ার খানুম টুইটারে লেখেন, "আমার বাবাকে আটক করা হয়েছে। আমরা জানি না কেন তাঁকে আটক করা হল। পুলিশ সরকারি আদেশের কোনও কপি আমাদের দেখাতে পারেনি।"
সরতাজ মাদনির ছেলে আরুত মাদনি বলেন, তাঁর বাবাকে অনন্তনাগ জেলার খানবালে সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাশ্মীর পুলিশের ইনস্পেকটর জেনারেল বিজয় কুমার, সাউথ কাশ্মীরের ডিআইজি অতুল গয়াল এবং অনন্তনাগ জেলার এসএসপি সন্দীপ চৌধুরি এসম্পর্কে মুখ খুলতে চাননি। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকেও নেতাদের গ্রেফতার করা নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
পিডিপি-র এক শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন মেহবুবা মুফতির ঘনিষ্ঠ। পুলিশ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ওপরে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। তাদের বার্তা পরিষ্কার। পুলিশ চায়, মেহবুবা মুফতি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিন।