
শেষ আপডেট: 13 April 2024 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: এবার সামনে এল পুরুলিয়ায় জঙ্গি যোগ। জানা গিয়েছে, ভুয়ো নামে পুরুলিয়ার হোটেলেও দু-দিন আশ্রয় নিয়েছিল জঙ্গিরা। এটা নজরে আসার পরেই গত ৬ এপ্রিল পুরুলিয়া শহরের বিভিন্ন হোটেলে এসে তদন্ত করে এনআইএ। একাধিক হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা।
পুরুলিয়া শহরের একটি হোটেলের মালিক শ্যামসুন্দর লোহারিবাল জানান, এনআইএর তিনজন আধিকারিক এসে কয়েকজনের ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছিলেন তারা ওই হোটেলে উঠেছিল কিনা। তাঁরা না বলায় হোটেলের খাতা খুলে পরীক্ষা করেন। তারপর আরও কিছু তথ্য নিয়ে চলে যান। সিসিটিভির ফুটেজও দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর হোটেলে সিসিটিভি নেই। এই ঘটনার পরে অবশ্য এখনই হোটেলে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
পুরুলিয়া শহরের আরেক হোটেল মালিক অমল মুখার্জি জানান, কয়েকদিন আগে জনা কয়েক লোক তাঁর হোটেলে এসেছিলেন। নিজেদের এনআইএর কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "মোবাইলে জঙ্গিদের ছবি দেখিয়ে জানতে চেয়েছিলেন এই হোটেলে তারা এসেছিল কি না। হোটেলের খাতায় নাম দেখে ছবি তুলে নিয়ে চলে যায়। নামের কোনও মিলও পায়নি।
শুক্রবার নিউ দিঘার একটি হোটেল থেকে ধরা পড়ে বেঙ্গালুরুর ক্যাফে বিস্ফোরণ কাণ্ডের দুই মাথা। ধৃতদের নাম আব্দুল মাথিন তহ্বা ও মুসাভির হুসেন সাজিব। শুক্রবার ভোরে এনআইএর একটি দল হানা দেয় নিউ দিঘায়। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় তাদের।
মার্চ মাসের ১ তারিখ বেঙ্গালুরুর রামেশ্বরম ক্যাফেতে আইইডি বিস্ফোরণে আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে ১০ জন। সিসিটিভি ফুটেজে এক যুবককে একটি কালো রঙের ব্যাগ নিয়ে ওই ক্যাফেতে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। ইডলি অর্ডার করে খাবার পর টেবিলের নীচে ব্যাগটি রেখে চলে যায় সে। মিনিট দশেক পরেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয় ওই ক্যাফেতে। ঝলসে যান অনেকে। তদন্তে নেমে হামলায় মূল অভিযুক্ত আব্দুল মাথিন ত্বহা ও মুসাভির হুসেন সাজিবকে চিহ্নিত করে পুলিশ। ৩ মার্চ ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছিল।
মার্চ মাসেই ক্যাফে বিস্ফোরণের অন্যতম মূল অভিযুক্ত মুজাম্মিল শরিফকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। ১৮টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশির পর তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় এনআইএ। সেই সময়ই চিহ্নিত করা হয়েছিল আব্দুল মাতিন তহ্বা এবং মুশাভির হুসেন সাজিবকেও। কিন্তু তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে শুক্রবার ভোরে নিউ দিঘা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাদের।