শেষ আপডেট: 22 November 2018 20:53
যদিও সেদিন সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন দীপক। বাইকুল্লা স্টেশনের ঘোষক দীপক, লোক কম থাকায় শিবাজী টারমিনাসে ডিউটি দিচ্ছিলেন। তিনি জানাচ্ছেন, "হোসেনসাগর এক্সপ্রেস ছাড়ার পরই বিস্ফোরণ হয়। ট্রেন স্টেশন ছাড়তেই দুই বন্দুকধারী এক জায়গায় দাঁড়িয়ে গুলি চালাতে শুরু করে।" স্টেশনে কাসাব একাই ৫০জনকে খুন করে বলে জানা যায়।
আতঙ্ক এখনও তাঁকে ঘিরেই। দীপক কাঁপা গলায় বলে চললেন, "কাসাবকে মানুষ মারার মেশিন মনে হচ্ছিল। মানুষ মারার আনন্দ ছিল তার চোখেমুখে।" এইভাবে একের পর এক মানুষকে মরতে দেখেও সামনে আসতে পারেননি দীপক। তবে, টানা ২৭ ঘণ্টা সমান তালে কাজ করে গিয়েছেন। কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক করা থেকে রেল পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে উদ্ধারে ঝাপিয়ে পড়া, সবই করেছেন সেদিন। পরে রেলের তরফে সাহসীকতার পুরস্কৃতও হন দীপক।
কিন্তু, সেই রক্তে ভাসা মুম্বই স্টেশন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মৃতদেহ সবই যে এখনও টাটকা। দীপক জানাচ্ছেন, "আমি বেঁচে যাব ভাবিনি। যে ভাবে খুঁজে খুঁজে টেনে এনে কাসাব মানুষ মারছিল, তাতে আমার বাঁচার সম্ভাবনাও কমে আসছিল।" টিকিট কাউন্টারের ভিতরে কোনওরকমে নিজেকে আড়াল করতে সফল হয়েছিলেন দীপক।
গভীর ক্ষত নিয়েই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন দীপক। এই ক্ষত মানসিক, যা মত্যু যন্ত্রণার চেয়েও অধিক । মাঝরাতে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়, কোনওরকম শব্দ সহ্য করতে পারেন না। আতসবাজি দেখলেই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। ২৬/১১ মুম্বই হামলা দীপকদের গোটা জীবনকে এভাবেই আতঙ্কে ভরিয়ে দিয়েছে।
আর ঠিক তিন দিন বাদেই মুম্বই হামলার ১০ বছর। ফাঁসির আগে কাসাবের শেষ কথা ছিল, "আপানারা জিতে গেলেন, আমি হেরে গেলাম।"
দীপকের অকপট প্রশ্ন, "সত্যিই কি তাই?"
The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন