
শেষ আপডেট: 10 July 2020 18:30
বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (বিএমসি)-এরজি নর্থ ওয়ার্ডের সহকারী মিউনিসিপ্যাল কমিশনার কিরণ দিগভকর জানিয়েছেন, ধারাভির এই করোনা জয়ের মূলে আছে চার ‘টি’এর ফর্মুলা। ট্র্যাকিং (Tracking) অর্থাৎ করোনা রোগীদের চিহ্নিত করা, ট্রেসিং (Tracing) অর্থাৎ করোনা রোগীদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত করা তথা কনট্যাক্ট ট্রেসিং, কোভিড টেস্টিং (Testing) এবং ট্রিটমেন্ট (Treatment) অর্থাৎ চিকিৎসা। দিগভকরের কথায়, দ্রুত কোভিড টেস্টিং এবং কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমেই করোনা পজিটিভ রোগী ও তাদের সংস্পর্শে আসা সংক্রমণের সন্দেহে থাকা রোগীদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। দ্রুত চিকিৎসায় সুস্থতার হারও বেড়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকমাসে বস্তির অন্তত ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। ১৪ হাজারের বেশি কোভিড টেস্টিং হয়েছে দিনের হিসেবে। এখনও ১৩ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। বস্তিতে কমিউনিটি কিচেনও চালু করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা হয়েছে।
আড়াই লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ধারাভি বস্তি করোনার হটস্পট হয়ে ওঠে মার্চেই। বস্তির বছর ছাপান্নর এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছিল ভাইরাসের সংক্রমণ। সেই প্রথম। তিনি ছিলেন সাফাইকর্মী। এরপরে ওই বস্তি এলাকারই এক ডাক্তারের শরীরে ধরা পড়ে করোনা। ধীরে ধীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অজস্র সরু গলি, ঘেঁষাঘেঁষি খুপরি ঘরগুলিতে গাদাগাদি করে মানুষের বাস, কমন টয়লেট, সব মিলিয়ে সংক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। মুম্বই স্বাস্থ্য দফতর জানায় ওই বস্তি এলাকাতে রয়েছেন অনেক টিবি রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি যাদের ক্রনিক রোগ রয়েছে। তাছাড়া ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার প্রকোপও বেশি বস্তিতে। কাজেই করোনার মতো ছোঁয়াচে সংক্রমণ আটকানো দুরূপ ব্যাপার হয়ে ওঠে।
কিরণ দিগভকরের কথায়, এরপরেই হাল ধরে বৃহন্মুম্বই পুরনিগম। ঘরে ঘরে স্ক্রিনিং শুরু হয়। দিগভকর বলছেন, ধারাভির প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২ লক্ষ ২৭ হাজারের বেশি মানুষের বাস। প্রতি ঘরে ঘুরে স্ক্রিনিং ও টেস্টিং করার জন্য আলাদা করে টাস্ক ফোর্স তৈরি হয়। কাজে নামেন স্বাস্থ্যকর্মী, প্যারামেডিক্যাল স্টাফরা। এপ্রিল থেকে অন্তত ৪৮ হাজার পরিবারের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হয়। ঘরে ঘরে গিয়ে লোকজনের শরীরের তাপমাত্রা ও অক্সিজেনে লেভেল মাপা হয়। সামান্য সন্দেহ হলেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বস্তি এলাকাতেই তৈরি হয় অস্থায়ী ফিভার ক্লিনিক। প্রায় সাড়ে ৩৫০ স্থানীয় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীকে এই কাজে লাগানো হয়।
বিএমসি-র তথ্য বলছে, এখনও অবধি ধারাভিতে ২,৩৫৯ জন কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। তবে সংক্রমণ সারিয়ে সেরে উঠেছেন প্রায় দু’হাজার মানুষ। ধারাভিতে এখন করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১৬৬ জন। ধারাভিতে সুস্থতার হারও বেশি। প্রায় ৫০ শতাংশ। অন্তত হাজার দুয়েক প্রবীণ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের অনেকেই সেরে ওঠার পথে।