দ্য ওয়াল ব্য়ুরো: বালাকোট হামলার ক্ষত এখনও টাটকা। মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেট থেকে লাগাতার বোমাবর্ষণ করে ভারতীয় বায়ুসেনা যে জইশ শিবির ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, সেই প্রমাণও আছে। কাজেই পাক জঙ্গিরা ফের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরোবার চেষ্টা করলে বা পুলওয়ামার মতো নাশকতা ঘটানো চেষ্টা করলে, মুখ বুঝে থাকবে না ভারত। আরও একটা বালাকোটের মতো প্রত্য়াঘাতের জন্য তৈরি হচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। মঙ্গলবার এক সাংবাদমাধ্য়মকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানকে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন প্রাক্তন বায়ুসেনাপ্রধান বি এস ধানোয়া।
১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামার সেনা কনভয়ে ফিদায়েঁ জইশ হামলার পরে ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে কঠোর প্রত্য়াঘাত হানে ভারতের বায়ুসেনাবাহিনী। জইশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তৈবার একাধিক জঙ্গি শিবির ধ্বংস হয়েছে বলে জানায় বায়ুসেনা বাহিনী। দাবি করা হয় ওই প্রত্য়াঘাতে খতম হয়েছে সাড়ে তিনশোরও বেশি জঙ্গি। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন বায়ুসেনাপ্রধান জানান, বালাকোটে জইশ ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই প্রমাণ আছে, পাকিস্তান যতই অস্বীকার করার চেষ্টা করুক। ধানোয়া বলেন, ‘‘বালাকোটের মতোই আরও একটা প্রত্য়াঘাত চালাতে পারে ভারত। জঙ্গিদের সপাটে জবাব দেওয়া দরকার। তবে এইবার ভারতের প্রত্য়াঘাত হবে আরও কঠোর, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও হবে বেশি। সমস্ত জঙ্গি শিবির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে যাতে কারও মনে কোনও সন্দেহ না থাকে।’’
বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার অভিযানের পরে জঙ্গি মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক তরজা। পাকিস্তানও দাবি করেছিল কিছু গাছ এবং জঙ্গল ছাড়া কোনও ক্ষতি হয়নি পাকিস্তানের। সেই বিতর্কের মধ্যেই সরকারের হাতে সরাসরি প্রমাণ তুলে দিয়েছিল বায়ু সেনা। প্রাক্তন বায়ুসেনাপ্রধানের দাবি, জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে সঠিক নিশানাই করেছিল বায়ুসেনার মিরাজ-২০০০ ফাইটার জেট। তবে মেঘলা আকাশের জন্য় উপগ্রহ চিত্রে সেভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা পড়েনি। প্রথম নিশ্চিত প্রমাণ ধরা পড়ে সিন্থেটিক অ্য়াপার্চার ক্যামেরায়। ধানোয়া বলেন, বায়ুসেনার আধুনিক ইজরায়েলি স্পাইস ২০০০ বোমা ফেলা হয়েছিল তিনটি বাড়িতে। নিখুঁতভাবে সেগুলির বাড়ির ছাদ ফুটো করে ঢুকে ভেতরের লোকজনকে নিকেশ করেছিল। প্রায় ১০০০ কেজির মতো স্পাইস-২০০০ বোমা ফেলা হয় বালাকোটের জঙ্গি শিবিরগুলিতে। অপারেশন চালায় ১২টি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান। প্রাক্তন বায়ুসেনাপ্রধানের দাবি, এই বোমাগুলি বাড়ির ছাদ দিয়ে ঢুকে ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটায়। ফলে ক্ষতি হয়েছে ভিতরে ভিতরে।
বালাকোটের পরে ভারতের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও শক্তিশালী হয়েছে। ধানোয়া বলেন, এখন ভারতের হাতে আছে রাফাল জেট ও এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম। কাজেই এবার জঙ্গি শিবিরে হামলা চালালে, সেই আঘাত আরও মজবুত হবে তাতে কোনও সন্দেহই নেই।
গত বছরই সেপ্টেম্বরে অবসর নিয়েছেন বিএস ধানোয়া। অবসরের পরেই বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি। প্রাক্তন এয়ার চিফ মার্শাল বলেছিলেন, পুলওয়ামার পর ভারত যে বদলা নেবে, পাকিস্তানও আগেভাগেই তা আন্দাজ করতে পেরেছিল। শুধু কবে, কোথায় বদলা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় নেওয়া হয়েছিল। পুলওয়ামায় যেহেতু জইশ-ই হামলা চালিয়েছিল, তাই শেষমেশ ওদের প্রশিক্ষণ শিবির গুঁড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়। বালাকোটে বেছে বেছে জঙ্গিদের কিছু ঘাঁটিকে নিশানা করে উড়িয়ে দেওয়া হয়। বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার এই প্রত্যাঘাত ছিল পাক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কাছে একটা বড় ধাক্কা। আর এই ধাক্কাটাই জঙ্গিদের মনোবল ভেঙে দিতে অনেকটাই কাজে এসেছে। তাই জঙ্গি-তাণ্ডব কমাতে ফের এমন একটা প্রত্য়াঘাতেরই দরকার আছে।