দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাফ সিরাপে বিষাক্ত রাসায়নিক রয়েছে, আগেই সতর্ক করেছিল সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যানডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO)। এরপরেও রমরম বাজারে বিকোচ্ছিল ওই ব্র্যান্ডেরই কাফ সিরাপ । অভিযোগ, ওই ওষুধ খেয়েই মৃত্যু হয়েছে ১০টি শিশুর। হিমাচল প্রদেশে কোল্ডবেস্ট-পিসি ব্র্যান্ডের কাফ সিরাপ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে সে রাজ্যের সরকার। বাতিল করা হয়েছে এই কাফ সিরাপ নির্মাতা সংস্থার লাইসেন্সও।
কোল্ডবেস্ট-পিসি ব্র্যান্ডের কাফ সিরাপ নিয়ে গতবছরও অভিযোগ উঠেছিল। ড্রাগ কন্ট্রোলের পরীক্ষায় উতরাতে পারেনি এই ব্র্যান্ড। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের রামপুর, উধমপুর জেলা ও হরিয়ানা থেকে অন্তত ১০টি শিশুর মৃত্যুর খবর মিলেছে যারা ওই ব্র্যান্ডের কাফ সিরাপ খেয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীরের ড্রাগ কন্ট্রোলারের তরফে এই খবর পৌঁছয় হিমাচল প্রদেশের ড্রাগ কন্ট্রোলার নবীন মারওয়ার কাছে। তারপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পত্রপাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই কোম্পানি। ওষুধের নমুনা পাঠানো হয় ল্যাবোরেটরিতে।
এই ব্র্যান্ডের ওষুধ বানায় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ডিজিটাল ভিসন। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে জানানো হয়েছে, চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের ডাক্তাররা এই ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে, কোল্ডবেস্ট-পিসি কাফ সিরাপের মধ্যে রয়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক ‘ডাইইথিলিন গ্লাইকল।’ চণ্ডীগড়ের রিজিওনাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবোরেটরিতেও এই ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করে একই রাসায়নিকের খোঁজ মিলেছে। হিমাচল প্রদেশের ড্রাগ কন্ট্রোলার নবীন মারওয়া বলেছেন, পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বছরও কোল্ডবেস্ট-পিসি কাফ সিরাপ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছিল। ৩৪০০ বোতল ওষুধের মধ্যে বিষাক্ত পদার্থের খোঁজ মিলেছিল। রাজ্য জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে দু’হাজারের বেশি ওষুধ বাতিল করেছিলেন ড্রাগ কন্ট্রোলের কর্তারা। সাবধান করা হয়েছিল সংস্থার মালিককে। ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট, ১৯৪০ অনুযায়ী কোনও ব্র্যান্ডের ওষুধ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তার সাজা সবচেয়ে বেশি যাবজ্জীবন কারাবাস, সবচেয়ে কম দশ বছরের জেল ও দশ লক্ষ টাকা জরিমানা। মারওয়া বলেছেন, ওই ড্রাগ নির্মাতা সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।