দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে আটক ৩০০ জন, বিএসএফ ও বিজিবি—দুই পারের সীমান্তরক্ষীবাহিনীর দাবি এমনটাই। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডস বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ডিজি শফিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আটক করা হয়েছে এমন ৩০০ জনকে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছিল এবং তাদের কাছে কোনও বৈধ নথি বা কাগজপত্র ছিল না।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে অগ্নিগর্ভ দেশ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চলছে কড়া নজরদারি। বিএসএফ ও বিজিবি, দুই পারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীরই দাবি, সীমান্তে পরিস্থিতি এখন অনেক স্বাভাবিক। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে চারদিন ধরে দিল্লিতে দুই বাহিনীর বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিজিবি-র ডিজি শফিনুল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, ভারতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কড়াকড়ির পরে অনেকেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। যে ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে তারা সম্প্রতি ভারত থেকেই বাংলাদেশে ঢুকেছিল। বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও এরা সকলেই বাংলাদেশি বলেই দাবি করেছেন বিজিবি প্রধান।
বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল বিবেক জোহরি বলেছেন, ‘‘আমরা প্রতিনিয়ত সীমান্তে কড়া নজর রাখছি। ওপারে আটক এই লোকজনেরা হয় ভারতে তাদের কোনও আত্মীয়ের কাছে এসেছিলেন, অথবা কর্মসূত্রে। এমনও অনেকে আছেন যারা কোনও উদ্দেশ্য ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকেছিলেন।’’ বিএসএফের ডিজির কথায়, দুই দেশের সীমান্তরক্ষীবাহিনীর তৎপরতায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও জাল নোটের কারবারে লাগাম টানা হয়েছে। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে দেশজুড়ে অশান্তির আবহে সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। এই ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য কথা বলা হয়েছে বিজিবির ১১টি দলের সঙ্গে।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে আসা সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টান শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাবেন। যার অর্থ ওই তিন দেশ থেকে আসা মুসলিম শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পাবেন না। তার কারণ হিসাবে মোদী সরকারের বক্তব্য, ওই তিনটি দেশের মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান হল মুসলিম রাষ্ট্র। আর বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও মুসলিমরাই সেখানে সংখ্যাগুরু। ফলে ধর্মীয় কারণে সেখানে মুসলিমদের উপর কোনও নিগ্রহ হয় না। কিন্তু সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও পার্সিদের বছরের পর বছর ধরে নিগ্রহ করা হচ্ছে। সুতরাং, তাঁরাই পাবেন ভারতের নাগরিকত্ব।
সিএএ ও এনআরসি নিয়ে অসন্তুষ্ট এ দেশের সংখ্যালঘুরা। কারণ, তাঁদের আশঙ্কা যাঁরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে শরণার্থী হিসাবে এদেশে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে সরকার। তাঁদের আর ভোটাধিকার থাকবে না। সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে কোনও সুবিধা তাঁরা পাবেন না। যদিও এই আশঙ্কা অমূলক বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘‘নাগরিকত্ব আইনের জন্য কোনও নাগরিকের কোনও ক্ষতি হবে না। তা তিনি যে ধর্মেরই হোন না কেন। এই আইন নিয়ে দেশের কোনও নাগরিকের কোনও উদ্বেগের কারণ নেই। দেশের বাইরে বছরের পর বছর ধরে যে মানুষগুলো নিগৃহীত হয়েছেন, যাঁদের ভারত ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাঁদের জন্যই এই আইন।’’