দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিষেধক সরবরাহ শুরু করে দিল জাইদাস ক্যাডিলা। কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদন মিলেছিল আগেই। বুধবার ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা জাইদাস বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারকে টিকা সরবরাহ শুরু করেছে তারা। এই টিকার তিনটি ডোজ হবে। সূঁচ ছাড়াই বিশেষ পদ্ধতিতে দেওয়া হবে। খোলা বাজারেও এই টিকা আনার পরিকল্পনা আছে আহমেদাবাদের এই কোম্পানির।
সূঁচ না ফুটিয়েই টিকা দেওয়ার কৌশল এনেছে জাইদাস ক্যাডিলা। বিশ্বে প্রথম জাইদাস ক্যাডিলাই টিকা দেওয়ার এই অভিনব কৌশল নিয়ে এসেছে। জাইদাসের তৈরি ভ্যাকসিনের নাম জা়ইকভ-ডি (ZyCoV-D) । এই টিকা দেওয়া হবে ফার্মাজেট ইনজেকটরে। এমন পদ্ধতি যাতে শরীরে সূঁচ ফোটানোর দরকার পড়বে না। জরুরি ভিত্তিতে জাইদাস ক্যাডিলার তৈরি জাইকভ-ডি ভ্যাকসিনে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, টিকার বিতরণ শুরু হবে বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে।
সূঁচ না ফুটিয়ে কীভাবে টিকা দেবে?
জ়াইকভ-ডি টিকার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এটি ‘নিডল ফ্রি ভ্যাকসিন’। অর্থাৎ টিকার ডোজ দিতে ইঞ্জেকশন ফোটানোর দরকার পড়বে না। তাহলে টিকা দেওয়া হবে কীভাবে? সূঁচ ছাড়া ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়ার একটা বিশেষ পদ্ধতি আছে যাকে বলে
‘ফার্মাজেট ইঞ্জেকটরস’ (Jet Injectors) । ত্বকের নীচে অর্থাৎ ইন্ট্রাডারমাল ডোজ দেওয়া হয়। এই ফার্মাজেট ইঞ্জেকটরসে এমন ডিভাইস ব্যবহার করা হয় যেখানে বাতাসের উচ্চচাপে স্প্রিং বা কমপ্রেসড গ্যাসের মাধ্যমে তরল খুব জোরে ত্বকের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, ত্বকে ছিদ্র করার দরকার পড়ে না। ঠিক যেভাবে অটোমোবাইল ইঞ্জিনে ফুয়েল ইঞ্জেকটর ব্যবহার করা হয়, এই পদ্ধতিও অনেকটা তেমনই। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন (আইএসও) একে
‘নিডল ফ্রি ইঞ্জেকটর’ নাম দিয়েছে। এর উপকারিতা হল সূঁচ না ফোটানোর কারণে হাতে ব্যথা হয় না, কোনও রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ভয়ও নেই।

জাইদাস ক্যাডিলা যে নিডল-ফ্রি পদ্ধতি ব্যবহার করছে তার নাম ট্রপিস (Tropis) । এই পদ্ধতির আবিষ্কর্তা মার্কিন কোম্পানি ‘ফার্মাজেট’ । স্টেরাইল, ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ এবং জেট ইঞ্জেকটর ব্যবহার করে ত্বকের নীচে জাইকভ-ডি টিকা দেওয়া হবে।
জাইকভ-ডি ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে সংস্থার ভ্যাকসিন টেকনোলজি সেন্টার (ভিটিসি)। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োটেকনোলজির যৌথ উদ্যোগে এই ভ্যাকসিন বানিয়েছে জাইদাস ক্যাডিলা। সরকারের ‘কোভিড সুরক্ষা’ মিশনের আওতায় এই ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়ালে সহযোগিতা করেছে ‘ন্যাশনাল বায়োফার্মা মিশন ফর প্রিক্লিনিকাল স্টাডিজ’।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'