দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলাতক ব্যবসায়ী বিজয় মাল্যকে বন্দী করে ভারতে পাঠানোর জন্য ২০১৮ সালে নির্দেশ দিয়েছিল লন্ডনের হাইকোর্ট। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে এ’বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টে আবেদন করেন বিজয় মাল্য। সেই আবেদন সোমবার আদালতের তরফে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিন লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট অফ জাস্টিসের বিচারপতি স্টিফেন ইরউইন ও বিচারপতি এলিজাবেথ লেইংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই শুনানি দেন। তাঁরা বলেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বক্তব্যের যথার্থতা থাকলেও ভারতের সিবিআই ও ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট যে অভিযোগ এনেছেন তার মধ্যে সাতটি অভিযোগের যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে। তাই আবেদনকারীর মামলা খারিজ করা হল।” তবে লকডাউন চলায় এই মুহূর্তেই বিজয় মাল্যকে ভারতে প্রত্যার্পণ করা সম্ভব হবে না বলেই জানিয়েছে হাইকোর্ট।
৬৪ বছর বয়সী বিজয় মাল্যর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ন’হাজার কোটি টাকা ঋণ শোধ না করে দেশ থেকে পালিয়েছেন। এর আগে ব্রিটেনের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট এম্মা আরবাথনট রায় দেন, কিংফিশার এয়ারলাইনসের মালিক হিসাবে বিজয় মাল্যর বিরুদ্ধে টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে। ভারতের আদালতে তাঁকে জবাবদিহি করতেই হবে।
সেই প্রসঙ্গে মাল্যর আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছিলেন, তাঁদের মক্কেল ব্যক্তিগত খরচ কমাতে চান। তিনি মাসে মাত্র ২৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড খরচ করবেন। এর আগে বিজয় মাল্যর পাওনাদাররা ব্রিটেনের কোর্টে অভিযোগ করেন, ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল অর্থ তছরুপ করে তিনি বিদেশে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন।
তারপরেই বিজয় মাল্য আদালতে জানিয়েছিলেন, প্রতি সপ্তাহে তাঁর খরচ ১৮ হাজার ৩০০ পাউন্ড। সপ্তাহে তাঁর মুদির দোকানের বিল আসে হাজার পাউন্ডের ওপর।
গত বছর ৫ জানুয়ারি ব্রিটেনের অর্থ তছরুপ বিরোধী আদালত বিজয় মাল্যকে অর্থনৈতিক অপরাধী বলে চিহ্নিত করে। পলাতক ব্যবসায়ী বলেন, এর ফলে ঋণদাতাদের কোনও সুবিধা হবে না।