দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদেনের ছেলের হদিশ দিলেই মিলবে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এমনটাই ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প প্রশাসন। যে দেশেই হামজা বিন লাদেন লুকিয়ে থাকুক না কেন, শুধু একবার খোঁজ দিতে পারলেই পাওয়া যাবে এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ঢুকে তৎকালীন আল-কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে খতম করেছিল আমেরিকার বিশেষ বাহিনী। এরপর থেকেই মাথাচাড়া দেয় লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেন। বাবার পর আল-কায়দাকেও নেতৃত্ব দিয়েছে সে। এমনকী আল-কায়দার সঙ্গে জড়িত বাকি শাখা সংগঠনগুলোরও মাথা হয়ে বসেছিল এই হামজাই। আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর হাতে ওসামার খতম হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই বারবার মার্কিন প্রশাসনকে হুমকি দিয়েছে হামজা। বাবার মৃত্যুর বদলা নিতে ৯/১১-র হামলার থেকেও বড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সে। আর এইসব কারণেই এ বার হামজা বিন লাদেনকে নিয়ে সতর্ক হতে চায় মার্কিন প্রশাসন। কোথায় আছে হামজা, তা জানার জন্য শুরু হয়েছে খোঁজ।
হামজা বিন লাদেন ওরফে 'জিহাদের যুবরাজ' (crown prince of jihad)-এর আস্তানা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শোনা গিয়েছে নানান কথা। কখনও শোনা গিয়েছে ইরানে নিজের মায়ের সঙ্গে থাকে হামজা। সেখানেই নাকি তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। কখনও বা হামজার কোনও আত্মীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, পাকিস্তান ছেড়ে আফগানিস্থানে ঘাঁটি গেড়েছে হামজা। তার আস্তানার তালিকায় উঠে এসেছে সিরিয়ার নামও। ৩০ বছর বয়সী হামজা বিন লাদেন ২০১৫ সালে অডিও বার্তায় সিরিয়ার জঙ্গিদেরও নিজের দলে টানতে চেয়েছিল। সে সময় হামজা বলেছিল 'স্বাধীন প্যালেস্তাইন' গড়তে সিরিয়ান জঙ্গিদের সাহায্য করবে সে। বদলে বাবার মৃত্যুর বদলা নেওয়ার লড়াইয়ে তার পাশে থাকবে সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন। মাঝে প্রকাশ্যে এসেছিল হামজার বিয়ের খবরও। শোনা গিয়েছিল, মহম্মদ আট্টার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে হামজার। প্রসঙ্গত এই মম্মদ আট্টা ছিল ৯/১১ হামলার অন্যতম পাণ্ডা। সে দিনের বিমান অপহরণের পিছনে এই আট্টাই ছিল মূল।
ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর থেকেই সন্ত্রাসের নতুন মুখ হয়ে উঠেছে হামজা বিন লাদেন। বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে আমেরিকাকে রক্তাক্ত করাই তার মূল লক্ষ্য। দেশকে নিরাপদ রাখতে এ বার মরিয়া ট্রাম্প প্রশাসন। আর তাই জোরকদমে চলছে ওসামা বিন লাদেনের ছেলে হামজা বিন লাদেনের ডেরার খোঁজ।