দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকায় জরুরি ভিত্তিতে ফাইজারের টিকা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। কিন্তু তার মধ্যেই এবার মার্কিন মুলুকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখ পেরিয়ে গিয়েছে। মোট মৃত্যুর সংখ্যাও ৩ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে রবিবার থেকেই সেখানে টিকাকরণের কাজ শুরু হওয়ার কথা।
এই প্রথম কোনও ভ্যাকসিনের বিষয়ে হ্যাঁ করেছে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। সংক্রমণের একটা বড় ধাক্কা লেগেছে আমেরিকার অর্থনীতিতে। আর তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভ্যাকসিনের ব্যবহার শুরু করতে চাইছে তারা।
ইউ এস আর্মি জেনারেল গুস্তাভে পের্না জানিয়েছেন, রবিবার থেকেই এই টিকা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাবে। সোমবারের মধ্যে দেশের ১৪৫টি জায়গায় পৌঁছে দেওয়া হবে এই টিকা। আরও যে ৬৩৬টি জায়গা প্রশাসন বেছে নিয়েছে সেখানে মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যে ভ্যাকসিন পৌঁছে যাবে। প্রতি সপ্তাহে আরও বেশি ডোজ তৈরি করে পাঠাবে ফাইজার, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
প্রথম ধাপে যে টিকা দেওয়া হয়েছে তা মূলত দেশের করোনা যোদ্ধাদেরই দেওয়া হবে। তারপরে যাঁদের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক তাঁদের এই টিকা দেওয়া হবে।
আমেরিকায় এখনও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শুক্রবার নতুন করে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যা এখনও অবধি দৈনিক সর্বোচ্চ। গত ৭ দিনে মার্কিন মুলুকে গড়ে ২৪১১ জনের মৃত্যু হয়েছে প্রতি দিন। এখন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৮৪ জন। হাসপাতালে ভর্তি কোভিড রোগীর সংখ্যাতেও এটি সর্বোচ্চ।
তবে এতদিন পরে আমেরিকায় ভ্যাকসিনের অনুমতি দেওয়ার পরেই উঠছে রাজনীতির প্রসঙ্গ। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল যাতে ভ্যাকসিন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে তারা। আর এই চাপ দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে। এই ভয়ও নাকি দেখানো হয়, তাড়াতাড়ি টিকার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান স্টিফেন হানকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আর তাই ট্রাম্পের হারের পরে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসতেই কোভিড ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দিল তারা।
ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ টিকাকরণের অনুমতি দিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল ব্রিটেন। ভারতেও টিকাকরণের অনুমতি চেয়েছে ফাইজার, সেরাম ইনস্টিটিটিউট ও ভারত বায়োটেক। যদিও ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল এখনও সেই অনুমতি দেয়নি। এর মধ্যেই এবার আমেরিকায় টিকাকরণের অনুমতি দেওয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এখন দেখার এই টিকাকরণ শুরু করার পরে সেখানে কোভিড পরিস্থিতিতে কতটা উন্নতি হয়।