দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব জুড়ে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আর এই অতিমারীর প্রভাব সবথেকে বেশি পড়েছে আমেরিকায়। ইতিমধ্যেই সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেন, করোনার ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে তাঁর দেশ। ইতিমধ্যেই এই ভ্যাকসিনের ২০ লাখের বেশি ডোজ তৈরি করা হয়ে গিয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, “গতকাল ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমরা খুবই ভাল কাজ করছি। খুব তাড়াতাড়ি কিছু ইতিবাচক ফল আমরা দেখতে পারি। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমরা ২০ লাখের বেশি ডোজ তৈরি করেছি। সেগুলি সরবরাহ করার জন্য আমরা তৈরি। বর্তমানে তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “ভ্যাকসিন তৈরি করা ছাড়াও আমরা থেরাপির ক্ষেত্রেও ভাল কাজ করছি। চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।”
তাহলে কি কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন তৈরি করে ফেলেছে আমেরিকা? উত্তর হল, না। এই মুহুর্তে ট্রায়াল চলছে। তবে ইতিমধ্যেই ২০ লাখের বেশি ডোজ তারা তৈরি রেখেছে। একবার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়ে গেলেই যাতে তা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস সূত্রে খবর, ট্রাম্প সরকার পাঁচটি কোম্পানিকে চিহ্নিত করেছে। তাদের করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করার বরাত দেওয়া হতে পারে। এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “সবথেকে ভাল ব্যাপার হল, প্রায় সাত থেকে আটটি কোম্পানি খুব ভাল কাজ করছে। ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে তারা সবাই নিজের মতো চেষ্টা করছে। আশা করছি ভাল ফল আমরা দেখতে পাব।” যদিও কোন কোম্পানি এখন ভ্যাকসিন তৈরি করছে, সেই ব্যাপারে কিছু বলেননি তিনি।
আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ বায়োটেক ফার্ম মোডার্নার সঙ্গে কাজ করছে। কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন তৈরি করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজ করছে মোডার্না।
হোয়াইট হাউসের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডক্টর অ্যান্থনি ফৌসি এই সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, কার্যকরী ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য অন্তত চারটি ট্রায়াল চলছে আমেরিকায়। ২০২১ সালের শুরুর দিকেই কয়েক লাখ ডোজ তৈরি হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই জোর কদমে ট্রায়াল শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা। বেশ কিছু ট্রায়াল অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, এই ভাইরাসকে এখন বোঝা যাচ্ছে। যদিও বিজ্ঞানীরা কিন্তু বলছেন, এখনও কোভিড ১৯-এর প্রকৃতি পুরোটা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। বারে বারে চরিত্র বদল হচ্ছে এই ভাইরাসের। আর তাই ভ্যাকসিন তৈরি করতে এতটা সময় লাগছে।