দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে প্রথম কোনও কোভিড ভ্যাকসিনকে ব্যবহার করার অনুমতি দিল আমেরিকা। ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা জরুরি পরিষেবায় ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। আমেরিকায় ইতিমধ্যেই কোভিড আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফাইজারের টিকায় সেই ছবিটা বদলাতে পারে বলেই মনে করছে তারা।
ফাইজারের এই টিকাকরণের কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। সেখানেও প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া হবে এই টিকা। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ফাইজারের এই টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরেই এই অনুমতি দিয়েছে তারা।
প্রাথমিক পর্যায়ে অবশ্য টিকার খুব কম ডোজই পাবে তারা। কিন্তু ধীরে ধীরে দেশের সবাইকে যাতে ভ্যাকসিন দেওয়া যায় সেই ব্যবস্থার দিকেই নজর দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। কীভাবে এই টিকা সংরক্ষণ করে রাখা যাবে সেই প্রস্তুতিই চালাচ্ছে তারা।
তবে এর মধ্যেই ফের একবার রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠে আসছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের উপর চাপ দেওয়া হয়েছিল যাতে ভ্যাকসিন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে তারা। আর এই চাপ দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে। এই ভয়ও নাকি দেখানো হয়, তাড়াতাড়ি টিকার ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান স্টিফেন হানকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আর তাই ট্রাম্পের হারের পরে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসতেই কোভিড ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দিল তারা।
ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দেশ টিকাকরণের অনুমতি দিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল ব্রিটেন। ভারতেও টিকাকরণের অনুমতি চেয়েছে ফাইজার, সেরাম ইনস্টিটিটিউট ও ভারত বায়োটেক। যদিও ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল এখনও সেই অনুমতি দেয়নি। এর মধ্যেই এবার আমেরিকায় টিকাকরণের অনুমতি দেওয়া নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
বিশ্বে করোনা সংক্রমণ সবথেকে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকায়। আক্রান্ত ও মৃতের নিরিখে অন্যান্য সব দেশকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে তারা। সংক্রমণ রুখতে ব্যর্থ হওয়ার খেসারত দিতে হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তাঁর ভোটে হারার পিছনে অন্যতম বড় কারণ এই সংক্রমণ মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়া। বাইডেন ক্ষমতায় আসার পরেই ফাইজারকে টিকাকরণের অনুমতি দেওয়া হল। এখন দেখার কবে থেকে এই টিকাকরণ শুরু হয় ও তার কী প্রভাব পড়ে।