দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফাইজার-বায়োএনটেকের পরে এবার দ্বিতীয় টিকা হিসেবে মোডার্নাকে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহার করার অনুমতি দিল আমেরিকা। গতকালই আমেরিকার ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির দায়িত্বে থাকা মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) জানায়, মোডার্নার টিকার সেফটি ট্রায়ালের ফলও খুব ভাল। কোনও জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর মেলেনি। সুরক্ষার পরীক্ষায় পাশ করেছে মোডার্নার আরএনএ ভ্যাকসিন। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই টিকায় ছাড় দেওয়ার জন্য কথাবার্তা চলছে। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতে এই অনুমতি দেওয়া হল।
আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ-র প্রধান স্টিফেন হান জানিয়েছেন, “কোভিড ১৯ থেকে রক্ষা করার জন্য এখন আমাদের হাতে দুটি ভ্যাকসিন চলে এসেছে। এই অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আরও একটি গুরুত্ত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল এফডিএ।”
জানা গিয়েছে, খুব শিগগির এই টিকাকরণ শুরু হবে। আমেরিকায় প্রথম দেশ যারা দুটি টিকাকে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি দিল। কিছুদিন আগেই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকায় সেই টিকাকরণ শুরুও হয়ে গিয়েছে।
মেসেঞ্জার আরএনএ বা বার্তাবহ আরএনএ সিকুয়েন্সকে কাজে লাগিয়ে টিকা তৈরি করেছে মোডার্না। আমেরিকা ছাড়াও কয়েকটি দেশে এই টিকার তৃতীয় স্তরের ট্রায়াল চলছিল। এফডিএ-র ভ্যাকসিন অ্যান্ড রিলেটেড বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্ট অ্যাডভাইজরি কমিটি জানিয়েছে, মোডার্নার টিকাও মানুষের শরীরে সুরক্ষিত ও নিরাপদ হবে বলেই আশা করা যায়। সব ঠিক থাকলে এই সপ্তাহের শেষ থেকে বা আগামী সপ্তাহ থেকে টিকাকরণ শুরু করতে পারে মোডার্না।
আমেরিকায় করোনা টিকার দৌড়ে এগিয়ে ছিল মোডার্না ও ফাইজারই। এর মধ্যে ফাইজার সবচেয়ে আগে টিকা দিতে শুরু করেছে। মোডার্নাও দাবি করেছে, তিন স্তরের ট্রায়ালে তাদের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রেও টিকা ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকরী হয়েছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর এবং হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজির তত্ত্বাবধানে এমআরএনএ ভ্যাকসিন বানিয়েছে মোডার্না। এই গবেষণায় রয়েছেন এনআইএইচের অধীনস্থ ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারের (VRC) বিজ্ঞানীরা। মোডার্নার ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রথম পর্বের রিপোর্ট চলে এসেছে আগেই। সেই রিপোর্টে গবেষকরা দাবি করেছিলেন, টিকার ডোজে অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। তবে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের ট্রায়ালের রিপোর্টই সামনে এনেছিল মোডার্না। পরে জানা যায়, ৫৫ বছরের বেশী বয়সীদেরও টিকার ইঞ্জেকশন দিয়ে সম্ভাব্য ফল খতিয়ে দেখেছেন ভাইরোলজিস্টরা। ২০ জন প্রবীণকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যাদের কোনও ক্রনিক রোগ নেই। সেখানেও সাফল্যের দাবি করা হয়েছে। তৃতীয় পর্বে ৩০ হাজারের বেশিজনকে টিকা দিয়ে মোডার্না দাবি করেছে এই টিকা ৯৪ শতাংশ ক্ষেত্রেই কার্যকরী হয়েছে।
মোডার্না জানিয়েছে, আগামী বছর জুন মাসের মধ্যে টিকার প্রায় ১০০ কোটি ডোজ তৈরি করে ফেলার পরিকল্পনা আছে তাদের। প্রাথমিকভাবে টিকার ১০ কোটি ডোজ পৌঁছে যাবে আমেরিকায়। দেশের বাইরেও টিকা পাঠানোর জন্য বিপুল উৎপাদন শুরু করবে মোডার্না। ৮ থেকে ১০ কোটি ডোজ পৌঁছে দেওয়া হবে বিশ্বের নানা দেশে।