দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার শুরু হয়েছে অনেক দেশেই। করোনাকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির শরীর থেকে প্লাজমা নিয়ে তা দেওয়া হচ্ছে আক্রান্ত রোগীকে। সাধারণ ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক রোগীদের ক্ষেত্রে এই থেরাপির ব্যবহার হচ্ছে। এবার আমেরিকাতেও জরুরি ক্ষেত্রে প্লাজমা থেরাপির অনুমতি দেওয়া হল। করোনার প্রকোপে সেদেশে ১ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর পরে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সামনে নভেম্বর মাসে আমেরিকায় নির্বাচন। দেশে করোনা রুখতে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যর্থ, এমনটাই অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। করোনার দাপটে আমেরিকার অর্থনীতিও দিন দিন ধসে পড়ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়েই ট্রাম্পের নির্দেশে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এই অনুমতি দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, এই প্লাজমাতে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবডি থাকে, যা করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করে কাউকে সুস্থ করে তুলতে সাহায্য করে।
ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “কোভিড ১৯ আক্রান্তদের সুস্থ করে তুলতে কাজে দেবে এই থেরাপি। এই থেরাপিতে ঝুঁকির থেকে বেশি সাফল্যের আশা থাকাতেই একে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”
অবশ্য এই থেরাপির একটা পার্শপ্রতিক্রিয়া রয়েছে বলেও জানিয়েছেন অনেক চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী। নিউ ইয়র্কের লেনক্স হিল হাসপাতালের পালমোনারি স্পেশ্যালিস্ট লেন হরোভিটজ জানিয়েছেন, “প্লাজমা হয়তো কাজ করতে পারে। যদিও এখনও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে তার প্রমাণ পাওয়া বাকি রয়েছে। কিন্তু যাঁরা গুরুতর অসুস্থ তাঁদের সুস্থ করে তোলার জন্য এই থেরাপি ব্যবহার করা যায় না।” তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যদি এই থেরাপি করা হয় তাতে কোনও আক্রান্তের সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আরও বেশি থাকে।
রবিবার মার্কিন মিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পড়ে কোনও একটা জরুরি ঘোষণা করতে চলেছেন ট্রাম্প। যদিও হোয়াইট হাউসের তরফে সেরকম কিছু বলা হয়নি। তার মধ্যেই অবশ্য প্লাজমা থেরাপির অনুমতি দিয়ে দেয় ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। বলা হয়, যাঁরা গুরুতর অসুস্থ তাঁদের ক্ষেত্রে ও শুধুমাত্র জরুরি অবস্থাতেই এই থেরাপির ব্যবহার করতে।
ওয়াশিংটন পোস্ট সূত্রে খবর, নির্দেশ দেওয়ার পরে ইতিমধ্যেই আমেরিকায় ৭০ হাজারের বেশি রোগীর শরীরে প্লাজমা থেরাপির ব্যবহার করা হয়েছে।