তাপমাত্রা মাইনাস ৩ ডিগ্রি, তীব্র ঠান্ডায় বিড়ালছানাদের বাঁচাল কুকুর মা!
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইরের তাপমাত্রা তখন মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে কেঁপে যাচ্ছে সকলেই। গরম পোশাক ছাড়া রাস্তায় বেরনোর কথা ভাবাই যাচ্ছে না। এই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে রাস্তার ধারে দেখা মিলল এক কুকুরের। ঠান্ডায় বেচারার তখন মরো মরো অবস্থা
শেষ আপডেট: 26 November 2019 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাইরের তাপমাত্রা তখন মাইনাস ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে কেঁপে যাচ্ছে সকলেই। গরম পোশাক ছাড়া রাস্তায় বেরনোর কথা ভাবাই যাচ্ছে না। এই প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে রাস্তার ধারে দেখা মিলল এক কুকুরের। ঠান্ডায় বেচারার তখন মরো মরো অবস্থা। তবুও শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে মাঝে মাঝে ছুটে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক। মুখ দেখে মনে হচ্ছে কী যেন একটা খুঁজছে। বা এমন বিপদে পড়েছে যে জন্য এখনই সাহায্য প্রয়োজন।
পথচলতিরাই খবর দেন স্থানীয় অ্যানিম্যাল রেসকিউ সেন্টারে। উদ্ধার করতে ছুটে আসে বিশেষ টিম। কিন্তু কুকুরটিকে উদ্ধার করতে গিয়ে চমকে যান সকলেই। দেখেন যেখানে কুকুরটি বসে রয়েছে তার পেটের তলায় রয়েছে পাঁচটা ছোট্ট বিড়াল ছানা। সবে হয়তো চোখ ফুটেছে। বা তার থেকে একটু বেশি। নিজে অত ঠান্ডা সহ্য করেও বিড়াল ছানাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার যে চেষ্টা ওই কুকুরটা করেছে তা দেখে অবাক হয়ে যান উদ্ধারকারী দলের কর্মীরা। ওই দলের এক কর্মীর কথায়, "কুকুরটার সারা পিঠে বরফের গুঁড়ো পড়েছিল। বোঝাই যাচ্ছিল তীব্র ঠান্ডায় ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। তবু বিড়ালছানাগুলোকে কোলছাড়া করেনি ও। যতটা পেরেছে নিজের শরীরের ওম দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালিয়ে গেছে।"
https://www.instagram.com/p/B5LtA9aJw0E/
এই ঘটনা সুদূর কানাডার। সেখানকার ওন্টারিওতে চ্যাথাম এলাকায় রাস্তার পাশে হদিশ মিলেছিল এই কুকুরটির। পেট অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ টিমের মুখপাত্র মারিয়াম আর্মস্ট্রং জানিয়েছেন, পথচলতি এক মহিলা প্রথম কুকুরটিকে দেখতে পান। গায়ে মাথায় হাত বোলাতেই নিজের বসে থাকার জায়গায় মহিলাকে নিয়ে যায় কুকুরটি। তখন ওই মহিলাই প্রথম দেখতে পান বিড়ালছানাগুলোকে। জানা গিয়েছে, ২ বছরের ওই মেয়ে কুকুরটার নাম সেরেনিটি। পথচলতি ওই মহিলা জানিয়েছেন, মনগ্রেল প্রজাতির ওই কুকুরটির চোখেমুখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল যে, বিড়ালছানাগুলোকে যেভাবেই হোক বাঁচাতে চায় ও।

ইতিমধ্যেই ওই কুকুরটি এবং পাঁচটা বিড়ালছানাকে উদ্ধার করে নিজেদের সেন্টারে নিয়ে এসেছে অ্যানিম্যাল রেসকিউ টিমের সদস্যরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছে ওদের গল্পও। কয়েকটা ছবিতে দেখা গিয়েছে খাবার খাওয়ানো হচ্ছে বিড়ালছানাদের। কোথাও বা দেখা গিয়েছে শুঁকে শুঁকে বিড়ালছানাগুলোকে দেখছে কুকুরটি। ভাবখানা এমন যে নিজের সন্তানের যেন ঠিকভাবে দেখভাল হয় তার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সেন্টারের কর্মীরা অবশ্য বলছেন, নিজের সন্তানের মতোই বিড়ালছানাগুলোকে আগলে রেখেছিল সেরেনিটি। ওর বুদ্ধিতেই ওই তীব্র থান্ডাতেও বেঁচে থাকতে পেরেছে বিড়ালছানাগুলো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সেরিনিটি এবং তার বিড়াল সন্তানদের গল্প জেনে ইতিমধ্যেই ওদের দত্তক নেওয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন বহু পশুপ্রেমী। কুকুরটির বয়স সঠিকভাবে জানা না গেলেও আন্দাজ বিড়ালছানাগুলোর বয়স পাঁচ সপ্তাহের কাছাকাছি। পেট অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ টিমের মুখপাত্র মারিয়াম আর্মস্ট্রংয়ের কথায়, "ওই মারাত্মক ঠান্ডার সেরিনিটি না থাকলে হয়তো এই বিড়ালছানাগুলো আজ বেঁচে থাকত না। এমনিতেই ওদের মধ্যে এক অদ্ভুত টান এরমধ্যেই তৈরি হয়েছে। আর যেটুকু বাকি আছে এই সেন্টারে থাকতে থাকতে সেই দূরত্বও মিটে যাবে।" নেট দুনিয়ায় এখন সেলিব্রিটি সেরিনিটি এবং তার বিড়াল সন্তানরা।