
শেষ আপডেট: 5 July 2019 12:54
বছর ১৫ আগে এই দৃশ্য দেখিয়েছিলেন একজন। বিশ্ববাসীও জানেন এ জিনিস একজনের দ্বারাই সম্ভব। তিনি অস্ট্রেলিয়ান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ স্টিভ আরউইন। সরীসৃপ প্রজাতির অন্যতম ত্রাস হলো কুমির। কিন্তু এই কুমিরের প্রতিও যে কারও ভালোবাসা থাকতে পারে, সেটা বিশ্ববাসীকে বুঝিয়েছিলেন স্টিভ আরউইন। কুমিরের প্রতি তাঁর প্যাশন দেখে চমকে উঠেছিল গোটা দুনিয়া। কী ভাবে যেন কুমির শব্দের সমার্থক হয়ে গিয়েছিলেন স্টিভ আরউইন।
কিন্তু মাত্র ৪৪ বছর বয়সেই ২০০৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, ৪২ বছর বয়সে স্টিংরে-র হুলের আঘাতে মৃত্যু হয় তাঁর। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে ডুব-সাঁতার দেওযার সময়েই ঘটে এই দুর্ঘটনা। সারা জীবন বন্যপ্রাণ ভালোবেসে, শেষমেশ এক জলজ প্রাণীর আক্রমণেই মারা যান তিনি।
https://www.instagram.com/p/Bzc-Wxihkc3/
স্টিভের মৃত্যুর পর অনেকেই ভেবেছিলেন বোধহয় কুমিরের প্রতি এমন প্যাশন আর কারও তৈরি হবে না। ভুল ছিলেন জনগণ। ভুল ভেবেছিলেন স্টিভের পরম ভক্তরাও। কারণ এক্কেবারে আদর্শ 'বাপ কা বেটা' তৈরি হয়েছে স্টিভের সন্তান রবার্ট আরউইন। বাবার এই ভয়ঙ্কর স্টান্টের ১৫ বছর পর একই কসরত দেখিয়েছেন রবার্ট। নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন একটি ভিডিয়ো-ও। সেই একই পোজ। সেই একই খাকি রংয়ের পোশাক। সামনে দাঁড়ানো সেই একই কুমির। এই কুমির নিয়েই খেলা দেখাতেন স্টিভ। এ বার বাবার কুমিরের সঙ্গেই স্টান্টে মেতেছেন রবার্ট। ভিডিয়ো শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, "বাবা আর আমি, Murray-কে খাওয়াচ্ছি। সেই একই জায়গা, একই কুমির। মাঝে কেটে গিয়েছে ১৫ বছর।" প্রবাদে আছে হিস্ট্রি রিপিটস। এ ক্ষেত্রেও হয়েছে তাই-ই।
বন্যপ্রাণের প্রতি স্টিভ আরউইনের এই অভিনব ও তীব্র ভালবাসার নেপথ্যে ছিলেন তাঁর বাবা-মা, বব এবং লিন আরউইন। ছেলে স্টিভের ছ’বছরের জন্মদিনে ১১ ফুট লম্বা একটি অজগর উপহার দিয়েছিলেন তাঁরা। তখন থেকেই সেটিকে খুব ভালবাসত ছোট্ট স্টিভ। পরে আরউইন পরিবার অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে চলে যায়। সেখানে তাঁরা একটি সরীসৃপ পার্ক উদ্বোধন করেন, যা বিয়ারওয়াহ রেপটাইল পার্ক নামে পরিচিত।
স্টিভের যখন ন’বছর বয়স, তখন থেকেই কুমিরদের সঙ্গে তাঁর অবাধ সখ্য। স্টিভ আরউইনের বিখ্যাত টেলিভিশন শো, ‘ক্রোকোডাইল হান্টার’-এর প্রথম পর্বের বিষয়ই ছিল স্টিভ ও তাঁর স্ত্রী তেরির হানিমুনে তোলা কুমিরদের একটি ভিডিও ফুটেজ। স্টিভ আরউইন এবং তেরি আরউইন একসঙ্গেই এই অনুষ্ঠান হোস্ট করতেন। পরে অবশ্য তাঁদের দুই সন্তান রবার্ট এবং বিন্দিও নিয়মিত এই শোয়ের অংশ হয়ে উঠেছিলেন।
এরপর থেকেই বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবার পথেই হেঁটেছে রবার্ট। কুমিরদের সঙ্গে গড়ে ওঠে নিবিড় বন্ধুত্ব। ১৯৭০ সালে স্টিভের বাবা-মা যে চিড়িয়াখানা আবিষ্কার করেছিলেন, ঠাকুমা-ঠাকুরদার প্রতিষ্ঠা করা সেই চিড়িয়াখানাতেই এই স্টান্ট দেখিয়েছেন রবার্ট আরউইন। তাঁর শো দেখতে আসা সকলেই তারিফ করেছেন রবার্টের সাহসের। প্রশংসা করে বলেছেন, "রবার্ট যা করেছে, তাতে ওর বাবা যেখানেই থাকুন না কেন নিঃসন্দেহে গর্বিত হবেন।" তবে কেবল রবার্ট নন, বন্যপ্রাণের প্রতি প্রেম রয়েছে স্টিভের মেয়ে বিন্দির-ও। ২০১৮ সালে ভাই-বোন একসঙ্গে তাঁদের মা তেরি-র সঙ্গে 'Crikey! It's the Irwins.'-নামের একটি ওয়াইল্ড লাইফ-শো-ও শুরু করেছেন।