দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্ধুকে বাঁচাতে বিশাল কুমিরের সঙ্গে লড়াই করল একরত্তি। উপড়ে নিল কুমিরের চোখ। জিম্বাবোয়ের ৯ বছরের স্কুলপড়ুয়ার কীর্তি দেখে তাজ্জব নেট দুনিয়া।
জিম্বাবোয়ের সিন্ডারেলা গ্রাম। সেই গ্রামেরই বাসিন্দা ৯ বছরের মেতে লাতোয়া মুওয়ানি। বন্ধুদের সঙ্গে স্নান করতে নেমেছিল পুকুরে। মনের আনন্দে সাঁতার কাটছিল একদল কচিকাঁচা। আচমকাই হানা দেয় এক পেল্লাই কুমির। জলের ত্রাসের মুখোমুখি পড়ে যায় লাতোয়া। ভয়ে-আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে বাকিরা। জল থেকে উঠে যে যেদিকে পারে ছুটে পালায়।
তবে লাতোয়াকে ফেলে পালাতে পারেনি তার বান্ধবী রেবেকা। কুমিরের গ্রাস থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে ভয়ডর কাটিয়ে এগিয়ে যায় সে। একলাফে চেপে বসে কুমিরের পিঠে। গুটিগুটি পায়ে তখন লাতোয়ার দিকে এগোচ্ছিল ওই কুমির। আতঙ্কে সিঁটিয়ে যায় সে। ইতিমধ্যেই নিজের হাত-পায়ের মাঝে লাতোয়াকে প্যাঁচ করে জড়িয়ে ফেলে। ভয়ে আতঙ্কে আর্তনাদ করতে থাকে ওই স্কুল পড়ুয়া।
বন্ধুর অসহায় অবস্থা দেখে আর সময় নষ্ট করেনি রেবেকা। সটান কুমিরের পিঠে চড়ে উপড়ে নেয় তার দুটো চোখ। যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করে কুমিরটি। আলগা হয় বাঁধন। রেহাই পায় লাতোয়া। তবে যতক্ষণ না কুমিরটি লাতোয়াকে ছেড়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দেয়নি রেবেকা। বন্ধুকে বাঁচাতে জান লড়িয়ে কুমিরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুস্তি করেছিল সে।
রেবেকার সাহস দেখে হতবাক সকলেই। ছোট্ট মেয়েটা এত কিছু করল কী ভাবে? মিষ্টি হেসে রেবেকা বলছে, "লাতোয়া আমার বন্ধু। সেদিন দলে আমিই ছিলাম সবচেয়ে বড়। ওর চিৎকার শুনে মনে হয়েছিল ওকে বাঁচাতেই হবে। ব্যাস আর কিছু ভাবিনি।" কুমিরকে ধরাশায়ী করে বন্ধুকে নিয়ে সাঁতরে পাড়ে উঠে আসে রেবেকা।
এরপর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় লাতোয়াকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সামান্য চোট লেগেছে তার। খুব তাড়াতাড়িই সুস্থ হয়ে যাবে লাতোয়া। বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হবে তাকে। মেয়ের এমন সাংঘাতিক বিপদ শুনে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন লাতোয়ার বাবা। তবে রেবেকার কেরামতি দেখে এখন বলছেন, "ঈশ্বরকে অনেক ধন্যবাদ যে আমার মেয়ে এমন একজন বন্ধু পেয়েছে। রেবেকা সঙ্গে থাকলে লাতোয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিন্ত।"
পড়ুন 'দ্য ওয়াল' পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ -এ প্রকাশিত গল্প
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%9c/