দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেক চেষ্টা করেও সন্ত্রাসবিরোধী আর্থিক সংস্থা ( এফএটিএফ )-এর ধূসর তালিকার বাইরে বেরাতে পারল না পাকিস্তান। যদিও কোনও রকমে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে নিজেদের কালো তালিকার বাইরে রাখতে সফল হয়েছে ইসলামাবাদ। কিন্তু এপ্রিল মাসের মধ্যে নিজেদের ধূসর তালিকার বাইরে বের করতে না পারলে ফের কালো তালিকাভুক্ত হতে হবে তাদের।
মঙ্গলবার প্যারিসে এফএটিএফ-এর ৩৯ সদস্য দেশের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানেই পাকিস্তান ও ইরানকে নিয়ে আলোচনা হয়। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় এই দুই দেশের ভূমিকার কথা উঠে আসে। তুরস্ক ও মালয়েশিয়া সমর্থন করে পাকিস্তানকে। কিন্তু বাকি দেশগুলি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানকে ব্যর্থ বলেই দাবি করে। লস্কর ই তৈবা, জইশ ই মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদ্দিনের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক জোগান বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য ধূসর তালিকায় রাখা হয় পাকিস্তানকে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের আশ্বাসের উপর ভরসা করে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়নি ইমরান খানের দেশকে।
এই ধূসর তালিকাভুক্ত হওয়ার পর একটি রিপোর্টে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থা জানিয়েছে, “এই এফএটিএফ-এর মাধ্যমে ধূসর তালিকায় থাকায় পাকিস্তানের অর্থনীতি বিরাট ধাক্কা খাবে। কারণ এর ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বাধার সৃষ্টি হবে। ব্যবসার ক্ষেত্রে পুঁজির অমিল হবে। ফলে পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে। তার প্রভাব কিন্তু আইএমএফ-এর উপরেও পড়বে।”
এদিকে পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করতে বদ্ধপরিকর ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, একদিকে লস্কর, জইশ, হিজবুলের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রত্যক্ষ মদত করছে পাকিস্তান, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জি জানাচ্ছে। এই দ্বৈত ভূমিকা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাইছে ভারত। অবশ্য কালো তালিকার বাইরে আপাতত বেরালেও খুব একটা স্বস্তিতে নেই ইমরান সরকার। কারণ, এপ্রিল মাসের মধ্যে নিজেদের বক্তব্যের প্রমাণ দিতে হবে পাকিস্তানকে। নইলে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে তাদের।