দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেললাইনে দাঁড়িয়ে চলছিল ফটোসেশন। একই পরিবারের সাত সদস্য এদিক ওদিক ছড়িয়ে। সবার ফটো তুলছেন একজন ফটোগ্রাফার। হঠাৎই একটা লাইন ধরে ছুটে এল ট্রেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল হুড়োহুড়ি। কোনওরকমে ট্রেন আসার আগেই পরিবারের সবাই সেই লাইন থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছে সেই পরিবার। ঘটনার পর এই ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে ইউটিউবে। তারপর থেকেই তা ভাইরাল।
ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে। এবিসি নিউজ সূত্রে খবর, একই পরিবারের সাত সদস্য ফটোসেশনের জন্য সেখানে একটি রেললাইনে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে বাচ্চাও ছিল। সবাই মিলে হুল্লোড় করছিলেন। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছিল বাচ্চারা। আর ফটোগ্রাফার ছবি তুলছিল।
হঠাৎ করেই তিনটি লাইনের মধ্যে মাঝের লাইন ধরে এগিয়ে আসে একটি মালগাড়ি। সঙ্গে সঙ্গে একজনকে বলতে শোনা যায়, “ট্রেন আসছে”। একথা শোনার পরেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সবাই সেই লাইন ছেড়ে সরে আসার চেষ্টা করেন। একটি বাচ্চা বুঝে উঠতে পারছিল না কোনদিকে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে একজন ছুটে গিয়ে তাকে নিয়ে সরে আসে। ট্রেন আসার আগেই কোনওরকমে সরে আসায় প্রাণে বেঁচে যায় ওই পরিবার।
https://www.youtube.com/watch?time_continue=123&v=ZuWmmf-PglI&feature=emb_logo
যেখানে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার রেললাইনে লাগানো ক্যামেরা পরিচালনা করার দায়িত্বে রয়েছে ভার্চুয়াল রেলফ্যান নামের একটি সংস্থা। তারাই নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে এই ভিডিওটি শেয়ার করেছে। সেখানে লেখা হয়েছে, “দয়া করে রেললাইন ও রেলের সম্পত্তি থেকে দূরে থাকুন।”
এই ভিডিও শেয়ার করার পর থেকেই তা ভাইরাল। ইতিমধ্যেই প্রায় এক লক্ষ লোক সেই ভিডিও দেখেছেন। এসেছে প্রচুর কমেন্ট। বেশিরভাগই ওই পরিবারের সমালোচনা করেছেন। একজন বলেছেন, ‘যে কোনও কারণেই হোক, কারও উচিত নয় রেললাইনে ঘুরে বেড়ানো। আমি আশা করছি ওই পরিবার একটা শিক্ষা পেল।’ একজন আবার বলেছেন, ‘এই ভিডিও থেকেই বোঝা যাচ্ছে ট্রেনের আকার, গতি ও বিপদ সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষেরই কোনও ধারণা নেই।’
ঘটনাটির নিন্দে করেছেন পেনসিলভেনিয়ার সুরক্ষা দফতরের দায়িত্বে থাকা ব্রক কার্চনার। তিনি বলেছেন, “একটা বিমান ওঠা-নামার সময় তো কেউ ছবি তোলার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়েতে গিয়ে দাঁড়াতে পারে না। তাহলে কেন তারা ছবি তোলার জন্য রেললাইনে যায়? ওটা ট্রেনের জায়গা। যখন তখন সেখানে ট্রেন আসতেই পারে।”
ভিডিও সৌজন্যে ইউটিউব