দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে হাত মেলান না, এই কারণ দেখিয়ে বাতিল করা হলো এক মুসলিম দম্পতির নাগরিকত্ব। সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটেছে সুইৎজারল্যান্ডের শহর লৌসানেতে।
কয়েক মাস আগেই সুইস নাগরিকত্ব চেয়ে আবেদন করেছিলেন এক মুসলিম দম্পতি। সেই ব্যাপারেই লৌসানে মিউনিসিপ্যালিটির তরফে জানানো হয় তাঁদের সামাজিক বেশ কিছু বাধা রয়েছে। লিঙ্গ সাম্যে তাঁরা বিশ্বাস করেন না। এমনকী বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে হাত পর্যন্ত মেলান না তাঁরা। কিন্তু সুইৎজারল্যান্ডের সংবিধান পুরুষ-নারীর সমান অধিকারে বিশ্বাসী। তাই তাঁদের তরফে এই ধরণের লিঙ্গবৈষম্য কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। তাই ওই দম্পতিকে নাগরিকত্ব দেওয়া সম্ভব নয়।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরে সেখানকার এক মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, ইসলামে বিপরীত লিঙ্গের লোকেদের শারীরিকভাবে স্পর্শ করার অনুমতি নেই। পরিবারের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের লোকেদের শারীরিক স্পর্শ করা গেলেও বাইরের লোকেদের সেটা কোনও ভাবেই করার অনুমতি নেই। তাই ওই দম্পতি যা করে তা ধর্ম মেনেই করে। এই অজুহাতে তাঁদের নাগরিকত্ব না দেওয়া অন্যায়।
কিন্তু লৌসানে পুরসভার তরফে জানানো হয়, ধর্মীয় আচার আইনের বাইরে নয়। তাই তাঁদের পক্ষে কোনও ধর্মীয় আচার পালনের জন্য দেশের আইন ভাঙা সম্ভব নয়। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরও একবার আবেদন করার সুযোগ থাকবে ওই দম্পতির। ৩০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন তাঁরা। তবে একমাত্র যদি বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে শারীরিক স্পর্শ করার ক্ষেত্রে ওই দম্পতি রাজি হয়, তবেই তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে লৌসানে মিউনিসিপ্যালিটি।