দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুমিরের গ্রাস থেকে নিজের সন্তানকে বাঁচিয়ে এনেছেন এক মা। জিম্বাবোয়ের রুন্ডি নদীর ত্রাসের মুখ থেকে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের ছেলেকে। কুমিরের সঙ্গে এমন সম্মুখ সমরে জয়ী হওয়ার জন্য ওই সাহসী মাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে নেট দুনিয়া।
কিন্তু এমনটা সম্ভব হল কী ভাবে?
দ্য গার্ডিয়ানের একটি রিপোর্ট অনুসারে, রুন্ডি নদীর ধারে দুই সন্তানকে নিয়ে গিয়েছেন বছর তিরিশের মুরিনা। নদীর পারে ছেলেমেয়েকে বসিয়ে রেখে মন দিয়েছিলেন মাছ ধরায়। আচমকাই ছেলের আর্তনাদ শুনতে পান মুরিনা। পিছন ফিরে দেখেন ভয়ে-আতঙ্কে বোবা হয়ে গিয়েছে তাঁর মেয়ে। আর সুবিশাল একটি কুমির কামড়ে ধরেছে তাঁর ছেলের হাত। ক্রমশ টেনে নিয়ে যাচ্ছে জলের ভিতর। রক্তে ভেসে যাচ্ছে গোটা এলাকা।
সন্তানকে সাক্ষাৎ মৃত্যুর মুখে দেখেও হতবুদ্ধি হয়ে যাননি মুরিনা। নিজের সবশক্তি নিয়ে ছুটে যান ছেলের কাছে। তারপর প্রথমে কুমিরের নাকে নিজের আঙুল ঢুকিয়ে দেন। শ্বাস নিতে সমস্যা হতেই বেকায়দায় পড়ে কুমিরটি। আলগা হয় মুখের গ্রাস। তখনই এক ঝটকায় ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন মুরিনা। গুরুতর জখম অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে ছোটেন স্থানীয় হাসপাতালে। কুমিরের কামড়ে তখন ছোট্ট ছেলের হাতের বেহাল দশা।
তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ায় এখন ভাল রয়েছে মুরিনার সন্তান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্রমশ সুস্থ হচ্ছে সে। কুমিরের গ্রাস থেকে সন্তানকে ফিরিয়ে আনার পর সকলের চোখে মুরিনা। তবে তিনি বলছেন, “এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম। তবে মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছিলাম। নইলে ছেলেকে বাঁচাতে পারতাম না। বাড়ির বড়দের কাছে শুনেছিলাম কুমিরের শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দিতে পারলে ওদের বেকায়দায় ফেলা যায়। সেই বুদ্ধিটাই তখন মাথায় খেলে গেছিল। তাই হয়তো মৃত্যুর মুখ থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।“
প্রসঙ্গত, জিম্বাবোয়ের এই রুন্ডি নদী কুমিরদের আস্তানা হিসেবে বিখ্যাত। প্রায় ২০ ফুট দৈর্ঘের কুমিররা এখানে ঘুরে বেড়ায়। আর সুযোগ বুঝে শিকার ধরে টেনে নিয়ে যায় জলের ভিতর।