দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শিরোনামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে আবারও যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। এ বার অভিযোগ এনেছেন এক মার্কিন লেখিকা। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় দু’দশক আগে একটি শপিং মলের ড্রেসিং রুমে তাঁর শ্লীলতাহানি করেন ট্রাম্প।
নিউ ইয়র্কের লেখিকা ই জিন ক্যারল। নিজের লেখা বইতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন ওই লেখিকা। এখানেই থামেননি তিনি। বই প্রকাশের পর ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারেও ফের ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তোপ দেগেছেন ক্যারল। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বরং তাঁর সাফ জবাব, নিজের বইয়ের বিক্রি জাতে ভালো হয় সে জন্যই এমন কাজ করেছেন ক্যারল। তাঁর বিরুদ্ধে তোলা ক্যারলের সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে এবং অবান্তর বলেও দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্প যতই অস্বীকার করুন না কেন ৭৫ বছর বয়সী লেখিকা ক্যারলের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আমেরিকা জুড়ে।
কিন্তু ঠিক কী হয়েছিল ক্যারলের সঙ্গে?
মার্কিন লেখিকার দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালের শেষদিকে। কিংবা ১৯৯৬ সালের শুরুতে। সে সময় একটি শপিং মলে এক টেলিভিশন শোয়ের অনুষ্ঠান সঞ্চালনার জন্য হাজির ছিলেন ক্যারল। অনুষ্ঠান শেষে ক্যারলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ট্রাম্পের। এক মহিলার জন্য অন্তর্বাস কিনতে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্যারলের কাছে তিনি সাহায্য চান। এরপর মলের একটি দোকানে যান তাঁরা। আর সেখানেই শুরু হয় বিপত্তি। বেশ কয়েকটি অন্তর্বাস বেছে নিয়ে ট্রাম্প নাকি পরতে বলেছিলেন ক্যারলকে, এমনটাই দাবি করেছেন লেখিকা। এ ছাড়াও মহিলার অভিযোগ, তাঁকে তাঁর বয়স নিয়েও কটাক্ষ করেন ট্রাম্প।
প্রাথমিক ভাবে হেসে গোটা ঘটনা উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন ক্যারল। কিন্তু ওই দোকানের ড্রেসিং রুমের সামনে আসতেই ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে চরম অসভ্যতা শুরু করেন বলে দাবি করেছেন লেখিকা। তিনি বলেন, আচমকাই ও আমায় চুমু খেতে শুরু করে। আমার গোপন অঙ্গে হাত দেয়। নানারকম অশ্লীল ইঙ্গিতও করে। এমনকী ট্রাম্প জোর করে তাঁর অন্তর্বাস খোলার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন ক্যারল। লেখিকা বলেন, "সে সময় শপিং মল বন্ধ হচ্ছিল বলে বেশি লোকজনও ছিল না। সেই সুযোগেই এমন অভ্যবতা করেছিলেন ট্রাম্প। কোনওমতে আমি পালিয়ে আসি।"
কিন্তু হঠাৎ এত বছর পরে কেন সরব হলে ক্যারল? মাঝে #মিটু ঝড়ের সময়েই বা কেন মুখ খোলেননি তিনি?
ক্যারল জানিয়েছেন, ভয়ে-আতঙ্কে-লজ্জায় প্রকাশ্যে এগুলো বলতে পারিনি। নিজের মনে গুমরে মরেছি। সে সময় আমার দু'জন বন্ধুকে সবটা বলেছিলাম। তাঁরা পুলিশের কাছেও জেতে বলেছিল। কিন্তু গিয়ে উঠতে পারিনি।
তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। কী বলছেন ট্রাম্প?
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, সবটাই মথ্যে। নিজের বই বিক্রির জন্যই এসব করছেন ওই মহিলা। পাশাপাশি ট্রাম্প এও দাবি করেছেন যে, কোনওদিন ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর দেখাই হয়নি।
প্রসঙ্গত, নারী অধিকার নিয়ে মার্কিন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির জন্য জনপ্রিয় ক্যারল। এর পাশাপাশি তিনি ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য। ক্যারোলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন যে এই লেখিকা ডেমোক্র্যাট পার্টির হয়ে কাজ করছেন, তাহলে তাঁকে অনুরোধ, প্লিজ সামনে আসুন।