দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তম কুমার অভিনীত ওগো বধূ সুন্দরী ছবির বিখ্যাত গান ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’। বাস্তবের নানা ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হামেশাই মেলে। তবে মানুষ ছাড়া পশুদের মধ্যেও এমন জটিল নারী চরিত্র পাওয়া যায় তা বোধহয় আগে জানা ছিল না কারোর।
একসঙ্গে আট বছর ধরে রয়েছে তারা। তিন সন্তানের অভিভাবক। কিন্তু আচমকাই সঙ্গীকে মেরে ফেলেছে সঙ্গিনী। কী কারণে এমন কাণ্ড ঘটালো সঙ্গিনী তা বুঝতে পারছেন না কেউই। আর পাঁচটা সাধারণ কাপলের থেকে এই কাপল খানিক আলাদা। কারণ এই জুটি মানুষের নয়, সিংহদের।
আমেরিকার ইন্ডিয়ানাপোলস চিড়িয়াখানায় কিছুদিন আগে নিজের সঙ্গীকে মেরে ফেলেছে এক সিংহি। তীব্র আক্রোশে শ্বাসরোধ করে দীর্ঘ আট বছরের সঙ্গী সিংহটিকে মেরে ফেলেছে ওই সিংহি। চিড়িয়াখানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ঘাড়েও চোট পেয়েছে মৃত সিংহটি। কিন্তু নিজের সঙ্গীর প্রতি কী কারণে ওই সিংহির এত আক্রোশ জন্মেছে তা বুঝতে পারেননি চিড়িয়াখানার কেউই।
২০১৫ সালে তিন সন্তানের জন্ম দেয় ঘাতক সিংহিটি। চিড়িয়াখানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এর আগে কোনওদিন এই সিংহ দম্পতির মধ্যে কোনওরকম অশান্তি দেখা যায়নি। ইন্ডিয়ানাপোলিস চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডেভিড হ্যাগান জানিয়েছেন, “এই মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক এবং আশ্চর্যের। কিন্তু বন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা খুব অস্বাভাবিক নয়।“
ওই সিংহদের দেখভাল করতেন যে ব্যক্তি তিনি জানিয়েছেন, গুহা থেকে একটা গোঙানির আওয়াজ পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে যান কী হয়েছে দেখার জন্য। গুহার কাছে পৌঁছেই শিউরে ওঠেন। দেখেন বারো বছরের সিংহি জুরি তার সঙ্গী বছর দশেকের ন্যাকের টুঁটি কামড়ে ধরেছে। পাশেই দাঁড়িয়ে জুরি-ন্যাকের তিন বছরের সন্তান সুকারি। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, জুরি আর ন্যাককে আলাদা করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন ন্যাককে বাঁচাতে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নিস্তেজ না হওয়া পর্যন্ত এক সেকেন্ডের জন্যেও নিজের শিকারকে আলগা হতে দেয়নি জুরি। দমবন্ধ হয়ে মারা যায় দশ বছরের সিংহ ন্যাক।
চিড়িয়াখানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দর্শকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল ন্যাকের। আট থেকে আশি সবাই এক ঝলক দেখতে চাইত এই পশুরাজকে। তাহলে কী পার্টনারের বিপুল জনপ্রিয়তাই জুরির ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল? সেই জন্য এ ভাবে অকালে মরতে হলো ন্যাককে? তাও আবার নিজের সঙ্গিনীর হাতে? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? এখন এই প্রশ্নই ঘুরছে আমেরিকার ইন্ডিয়ানাপোলস চিড়িয়াখানার আধিকারিকদের মনে।