দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমেরিকা সফর চলাকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তান চাইলে তিনি কাশ্মীর সমস্যা মেটানোর ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করতে রাজি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরেই গুঞ্জন ওঠে কূটনৈতিক মহলে। এ বার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। বললেন, পাকিস্তান আশা করেনি, কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে তৎপর হবেন ট্রাম্প। ভারতেরও উচিত নিজেদের গোঁয়ার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা।
পাকিস্তানের এক রেডিও চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারের সময় কুরেশি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, কাশ্মীর সমস্যা চরম সীমায় এসে পৌঁছেছে। এর দ্রুত সমাধান দরকার।" তারপরেই তিনি ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ভারতের উচিত নিজেদের গোঁয়ার মানসিকতা থেকে সরে আসা। কাশ্মীরের পরিস্থিতি দিনদিন আরও খারাপ হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। আর সমাধানের জন্য যদি ট্রাম্পের মতো কেউ নিজে থেকে এগিয়ে আসেন, সে ক্ষেত্রে দু'দেশকেই সেই সাহায্য নেওয়া উচিত। ট্রাম্প যে এ ভাবে এগিয়ে আসবেন, তা পাকিস্তান আশা করেনি।"
গত সপ্তাহে ইমরান খানের সফর চলাকালীন হোয়াইট হাউসে ইমরানকে পাশে বসিয়ে ট্রাম্প বলেন, প্রধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও কাশ্মীর সমস্যা মেটাতে তাঁর সাহায্য চেয়েছেন। দু'দেশ চাইলে তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে রাজি। ট্রাম্পের এই কথা শুনে ইমরান বলেন, এটা হলে দু'দেশের কোটি কোটি মানুষ তাঁকে ধন্যনবাদ জানাবেন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরেই ভারতের রাজনীতিতে শুরু হয় জলঘোলা। বিরোধীরা অভিযোগ তোলেন, এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? তিনি কি সত্যিই আমেরিকার সাহায্য চেয়েছেন। যদিও বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, মোদী কোনও দিনই এই ধরণের কোনও আবেদন জানাননি। আর ভবিষ্যতেও জানাবেন না। ভারত সবসময় মনে করে, কাশ্মীর আমাদেরই অঙ্গ। তাই কাশ্মীরে কোনও সমস্যার সমাধান একমাত্র ভারত-পাকিস্তানের আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব। আর সেটা তখনই সম্ভব, যখন পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ করবে।
বিদেশমন্ত্রকের এই বক্তব্যের পর অবশ্য ট্রাম্প বা ইমরান কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু পাক বিদেশমন্ত্রীর এ দিনের মন্তব্য ফের উস্কে দিল সেই বিতর্ককে।